পটুয়াখালীতে সাড়ে ৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৫টি সেতু ও সাতটি সড়কের নির্মাণকাজ গত ২২ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন এসব প্রকল্পে কোথাও সেতুর কাঠামো সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ হয়নি, আবার কোথাও সড়কের কাজ মাঝপথে ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে নির্মিত অবকাঠামো ব্যবহারের বাইরে রয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২২টি প্যাকেজের আওতায় এসব কাজের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছিল ইফতি–ইটিসিএল প্রাইভেট লিমিটেড, যার মালিক পিরোজপুর–২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দেশত্যাগ করেন এবং পরে তাঁর ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। এর পরপরই আর্থিক লেনদেন জটিলতায় স্থানীয় সাব–ঠিকাদারেরা কাজ বন্ধ করে দেন।
এলজিইডির পটুয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর জানান, সাব–ঠিকাদারেরা বিল উত্তোলনসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে কাজ বন্ধ করেন এবং পরে আদালতে মামলা করেন। ফলে মূল ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা যাচ্ছে না। বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলে সমাধান ও কাজ পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের পরিসর ও ব্যয়
এ প্রকল্পগুলো চারটি পৃথক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়নাধীন ছিল। মোট ৭৬ কোটি ৫৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকার কাজ ২০২১–২২, ২০২২–২৩ ও ২০২৩–২৪ অর্থবছরে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
| উপজেলা | সেতু/সড়ক কাজ | ব্যয় (টাকা) |
|---|---|---|
| সদর | ১৯ সেতু ও সংযোগ সড়ক | ১৬.২৫ কোটি |
| গলাচিপা | ৭ সেতু ও ৩.৪ কিমি সড়ক | ১২.২৩ কোটি |
| কলাপাড়া | ৫ সেতু | ৭.২৯ কোটি |
| মির্জাগঞ্জ | ২০ সেতু | ১০.৯৮ কোটি |
| রাঙ্গাবালী | ৪ সেতু | ৬.৫৩ কোটি |
| দুমকি | ১.৫ কিমি সড়ক | ১.৯১ কোটি |
| সদর (সড়ক উন্নয়ন) | ৯.৪ কিমি সড়ক | ২১.৩৪ কোটি |
সব মিলিয়ে ৫৫টি সেতু এবং সাতটি সড়ক উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়নের কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় একাধিকবার মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ সড়ক উন্নয়ন কাজ ২০২৪ সালের অক্টোবর–নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্প থেমে যায়।
কাজের অগ্রগতি ও বর্তমান অবস্থা
এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, সড়ক উন্নয়নকাজে গড় অগ্রগতি ৫৬ শতাংশ এবং সেতু নির্মাণকাজে গড় অগ্রগতি ৭৭ শতাংশ। কিছু ক্ষেত্রে সেতুর কাঠামো শতভাগ সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় ব্যবহারযোগ্য হয়নি। কয়েকটি উপজেলায় ৪০ থেকে ৮৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন অবস্থায় রয়েছে।
সাব–ঠিকাদারদের দাবি অনুযায়ী, মূল ঠিকাদারের ব্যাংক হিসাব জব্দ ও আর্থিক লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কাজের অর্থপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন পুরোপুরি স্থগিত হয়ে পড়ে। বর্তমানে কয়েকজন সাব–ঠিকাদার আদালতে মামলা করেছেন এবং সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন।
মাঠপর্যায়ের অবস্থা
স্থানীয়ভাবে দেখা যায়, কোথাও সেতুর উপরিভাগ নির্মিত হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় তা ব্যবহারের বাইরে রয়েছে। সড়কগুলোর কোথাও ইটের খোয়া ফেলে রাখা হয়েছে, কোথাও মাটি কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে অনেক অংশে পানি জমে গর্ত ও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, যা চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কাজ বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং সেতু–সড়কগুলো কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে।









