খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই জুন ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম

চলতি মে মাসের শেষভাগ থেকেই সমগ্র দেশজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির সামগ্রিক প্রবণতা ক্রমান্বয়ে কমতে শুরু করেছে। এর ধারাবাহিকতায় জুন মাসের শুরুতেই দেশের অধিকাংশ অঞ্চল ইতিমধ্যে তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, চলতি জুন মাসে দেশের ওপর দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে আরও দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তবে এই তীব্র গরমের পাশাপাশি মাসের প্রথমার্ধের মধ্যেই দেশের ওপর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সম্পূর্ণ বিস্তার লাভ করতে পারে, যার মাধ্যমে বর্ষাকালের আনুষ্ঠানিক প্রভাব শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনাও রয়েছে।
Table of Contents
জুন মাসের জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পূর্বাভাসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ মাসে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বৃষ্টিপাত কম হলেও চলতি মাসে দেশে অন্তত ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর পাশাপাশি আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই মাসে দিন এবং রাতের সার্বিক তাপমাত্রা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে, যা জনজীবনে গরমের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সমুদ্রাঞ্চলের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, চলতি জুন মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট এই লঘুচাপগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি পরবর্তীতে শক্তিশালী রূপ ধারণ করে মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া পূর্বাভাসে সতর্ক করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের বিগত মাসের আবহাওয়াজনিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, সদ্য বিদায়ী মে মাসে দেশে মোটের ওপর সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে দেশের সব অঞ্চলের বৃষ্টিপাতের চিত্র এক ছিল না; মে মাসে চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিপরীতে দেশের অন্যান্য বিভাগগুলোতে মে মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
বিগত মাসের তাপমাত্রার রেকর্ড অনুযায়ী, গত ১৮ মে তারিখে চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। অন্যদিকে, গত ৩ মে তারিখে সিলেটে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
আবহাওয়ার সার্বিক অবস্থা: দেশের অন্যান্য অবশিষ্টাংশে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। একই সাথে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
চলতি সপ্তাহের সোমবারের আবহাওয়ার চিত্র অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রায় ৪০টি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বিরাজ করছিল। তবে মঙ্গলবারের জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে দেশের আটটি বিভাগেই বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।
বৃষ্টিপাতের অঞ্চল: চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা: হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হওয়ার আভাসও দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম দেশের বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে গণমাধ্যমকে জানান যে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আকাশে ও ভূখণ্ডে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণেই মূলত তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের অবহাওয়া পরিস্থিতিতে আপাতত কোনো ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ফলে বৃষ্টিহীন এই শুষ্ক ও গরম আবহাওয়ার কারণে দেশের চলমান তাপপ্রবাহ আরও দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
মন্তব্য