খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই মে ২০২৬, ৫:২৬ পিএম

সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে সংঘটিত একটি গরু ডাকাতির ঘটনায় দীর্ঘ তদন্তের পর একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ, যার মাধ্যমে ডাকাতি করা গরুর মাংস রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সুপারশপে সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। এক বছর আগে সংঘটিত ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, যা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদের আগে ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের বাসিন্দা এক ব্যবসায়ী উত্তরাঞ্চল থেকে ১৪টি গরু ক্রয় করে পিকআপে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কের একটি এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দল পিকআপটি গতিরোধ করে। ডাকাতরা চালক, হেলপার ও গরুর রাখালদের হাত-পা বেঁধে ফেলে গরুগুলো নিজেদের পরিবহন ব্যবস্থায় তুলে নেয়। এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির সহায়তায় ডাকাত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। গত বুধবার নিজ এলাকা থেকে রিপন ওরফে হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে, তারা শুধু মহাসড়কে ডাকাতিই করেনি, বরং ডাকাতি করা গরু জবাই করে মাংস হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন সুপারশপে সরবরাহ করত একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে।
রিপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে জিয়া হোসেন এবং তার সহযোগী কসাই আব্দুল আলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল এবং তারা বিভিন্ন সময়ে ডাকাতি করা গরু সংগ্রহ করে দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে সরবরাহ করত, যাতে শনাক্ত করা কঠিন হয়।
গ্রেপ্তার তিনজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
| নাম | বয়স | পরিচয় | ভূমিকা | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|---|
| রিপন ওরফে হাসান | ২৪ | মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাসিন্দা | ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য ও মূল পরিকল্পনাকারীদের একজন | কারাগারে |
| জিয়া হোসেন | ৪৫ | ঢাকার আশুলিয়া এলাকার বাসিন্দা | সুপারশপে মাংস সরবরাহকারী চক্রের সঙ্গে যুক্ত | কারাগারে |
| আব্দুল আলিম | ৪২ | পাবনার বেড়া উপজেলার বাসিন্দা | কসাই হিসেবে মাংস প্রক্রিয়াজাত ও সরবরাহে সহায়তা | কারাগারে |
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই ঘটনায় শুধু ডাকাতিই নয়, বরং খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও গুরুতর ঝুঁকির বিষয় জড়িত থাকতে পারে। কারণ ডাকাতি করা পশুর মাংস যথাযথ পরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই বাজারে প্রবেশ করানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত চলছে।
স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মহাসড়কে গরু ও অন্যান্য পশুবাহী পরিবহনের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সুপারশপ ও মাংস সরবরাহ চেইন আরও কঠোরভাবে নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
মন্তব্য