নড়াইলের কালিয়ায় ২৮ মণের বিশাল ষাঁড় ‘বাহুবলী’

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নড়াইল জেলায় কোরবানির পশুর বাজারে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ‘বাহুবলী’ নামের একটি বিশালাকার ষাঁড়। নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া মিনাপাড়ায় অবস্থিত ‘রাহুল-রিয়া অ্যাগ্রো ফার্ম’ নামক খামারে এই ফ্রিজিয়ান সাহিওয়াল জাতের ষাঁড়টি লালন-পালন করা হয়েছে। সাদা-কালো রঙের এই বিশালদেহী পশুটিকে দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ খামারে ভিড় জমাচ্ছেন। খামারি রিপন মিয়া তাঁর এই প্রিয় পশুর দাম হাঁকছেন ১০ লাখ টাকা।

বাহুবলীর শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য

ষাঁড়টি ওজনে প্রায় ১ হাজার ১০০ কেজি বা ২৮ মণ। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ ফুট এবং উচ্চতা ৬ ফুট। বিশাল আকৃতির কারণে এবং বাহুবলী চলচ্চিত্রের অনুপ্রেরণায় এটির নাম রাখা হয়েছে ‘বাহুবলী’। বর্তমানে গরুটির বয়স হয়েছে আড়াই বছর এবং এর দাঁতের সংখ্যা দুইটি। খামারির ভাষ্যমতে, ষাঁড়টি এমনিতে শান্ত স্বভাবের হলেও নতুন মানুষ দেখলে কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এর বিশাল দেহ সামাল দিতে এবং ঘর থেকে বাইরে বের করতে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন মানুষের সহায়তার প্রয়োজন হয়।

বাহুবলীর জীবনবৃত্তান্ত ও পরিমাপ

নিচে বাহুবলী নামের এই বিশাল ষাঁড়টির শারীরিক ও অন্যান্য তথ্যের একটি তালিকা প্রদান করা হলো:

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
জাতফ্রিজিয়ান সাহিওয়াল
বর্তমান ওজন১ হাজার ১০০ কেজি (২৮ মণ)
দৈর্ঘ্য১৪ ফুট
উচ্চতা৬ ফুট
দাঁতের সংখ্যা২টি
ক্রয়কালীন ওজন২০০ কেজি
দৈনিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ৮০০ – ৯০০ টাকা
প্রত্যাশিত বিক্রয়মূল্য১০,০০,০০০ টাকা (১০ লাখ)

খামারের ইতিহাস ও লালন-পালন পদ্ধতি

খামারি রিপন মিয়া ২০১৮ সালে তাঁর দুই সন্তান রাহুল ও রিয়ার নামে ‘রাহুল-রিয়া অ্যাগ্রো ফার্ম’ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তাঁর খামারে মোট ২২টি ষাঁড় রয়েছে, যার মধ্যে ২১টি সাহিওয়াল এবং ১টি ফ্রিজিয়ান সাহিওয়াল জাতের। প্রায় আড়াই বছর আগে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার একটি হাট থেকে মাত্র ২০০ কেজি ওজনে বাহুবলীকে কিনে আনেন রিপন মিয়া। এরপর থেকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে এটিকে বড় করা হয়েছে। প্রতিদিন এই ষাঁড়টির খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘাস, খড় এবং দানাদার খাদ্য নিশ্চিত করা হয়। তীব্র গরমের হাত থেকে রক্ষায় রিপনের স্ত্রী রোজিনা পারভিন নিয়মিত ষাঁড়টিকে পরিষ্কার পানি দিয়ে গোসল করিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন।

খামারির প্রত্যাশা ও সরকারি মন্তব্য

রিপন মিয়া প্রত্যাশা করছেন, ১০ লাখ টাকা মূল্যে তিনি বাহুবলীকে বিক্রয় করতে পারবেন। তিনি বিশেষভাবে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন যেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর বিশ্বাস তাঁর এই পশুটি ক্রয় করেন। এ বিষয়ে তিনি সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা করছেন। নড়াইল জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাশেদুল হকের মতে, বাহুবলী বর্তমানে জেলার সবচেয়ে বড় গরু হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, খামারি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশুটি পালন করছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ আশা করছে, খামারি তাঁর পশুর ন্যায্য মূল্য পাবেন, যা জেলার অন্যান্য পশুপালকদের উৎসাহিত করবে।

দর্শনার্থীদের প্রতিক্রিয়া

বাহুবলীকে দেখার জন্য নড়াইল শহরের দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক জনতা খামারে আসছেন। দর্শনার্থীদের কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন। নড়াইল থেকে আসা সিফাত কাজী জানান, তিনি জীবনে অনেক গরু পাললেও এত বড় এবং সুন্দর গরু আগে কখনো দেখেননি। সোহেল রানা নামের অপর এক দর্শনার্থী জানান, দূর থেকে এই বিশালাকার ষাঁড়টি দেখতে এসে তিনি অভিভূত হয়েছেন। কালিয়া উপজেলার এই খামারটি বর্তমানে স্থানীয়দের কাছে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বাহুবলীর পাশাপাশি খামারে থাকা অন্যান্য সাহিওয়াল জাতের গরুগুলোও কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে।