বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাত্র দুইশত টাকার বিনিময়ে ট্রলি সরিয়ে নিতে গিয়ে এক মুমূর্ষু রোগীর অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালেরই এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অক্সিজেন বিচ্ছিন্ন করার পরবর্তী কয়েক মিনিটের মধ্যেই চিকিৎসাধীন ওই নারী রোগীর মৃত্যু হয়। এই অমানবিক ঘটনার প্রেক্ষিতে হাসপাতাল জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।
Table of Contents
ঘটনার বিবরণ ও প্রেক্ষাপট
নিহত দিপালী সিকদার (৪০) বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব খরকি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি শংকর সিকদারের স্ত্রী। গত বুধবার (১৩ মে) বিকেল ৩টার দিকে তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে তিনি শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জরুরি ভিত্তিতে মেডিসিন বিভাগে স্থানান্তর করার এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে অক্সিজেন প্রদানের নির্দেশ দেন। শয্যা সংকটের কারণে তাকে হাসপাতালের ট্রলিতে রেখেই অক্সিজেন প্রদান করা হচ্ছিল।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, বিকেল ৪টার দিকে মেডিসিন ইউনিট-১ এর অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেল অন্য এক রোগীর স্বজনের কাছ থেকে মাত্র দুইশত টাকা বকশিশ নিয়ে ট্রলিটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ট্রলিটি সরাতে গিয়ে তিনি দিপালী সিকদারের শরীরে লাগানো অক্সিজেন সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। রোগীর স্বজনরা বারবার অনুরোধ এবং নিষেধ করা সত্ত্বেও সোহেল তা অগ্রাহ্য করেন। অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হওয়ার স্বল্প সময়ের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ
| বিষয় | তথ্য |
| নিহতের নাম | দিপালী সিকদার (৪০) |
| ঠিকানা | পূর্ব খরকি, মেহেন্দিগঞ্জ, বরিশাল |
| ঘটনার স্থান | শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল |
| অভিযুক্ত কর্মচারী | সোহেল (মেডিসিন ইউনিট-১) |
| অভিযোগের কারণ | দুইশত টাকার জন্য অক্সিজেন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা |
| গৃহীত ব্যবস্থা | সাময়িক বরখাস্ত ও বেতন স্থগিত |
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ ও প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর রোগীর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেলকে আটক করে মারধর করেন। হাসপাতালের অন্যান্য কর্মীদের সাথে হাতাহাতির ফলে কিছু সময়ের জন্য চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। হাসপাতালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা অভিযুক্তকে উদ্ধার করার পর তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাক্তার এ.কে.এম মশিউল মুনীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই অভিযুক্ত সোহেলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, এই মর্মান্তিক ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী চূড়ান্ত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আইনি ব্যবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি
নিহতের পরিবার ইতোমধ্যে হাসপাতাল পরিচালকের নিকট লিখিত অভিযোগ পেশ করেছেন এবং দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম জানান যে, পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে নিয়মিত মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিবেশ শান্ত রয়েছে। এই ঘটনাটি জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও জনবল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।
