জেরুজালেমের দক্ষিণ-পূর্বে আল-আইজারিয়া শহরে ইসরায়েলি বুলডোজার অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০টি ফিলিস্তিনি দোকান ভেঙে দিয়েছে। দখলকৃত পশ্চিম তীরে বসতি-সম্পর্কিত একটি সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।
বসতি সম্প্রসারণবিরোধী সংগঠন ‘পিস নাউ’-এর পরিচালক হাগিত ওফরান জানান, ভাঙা দোকানগুলো সেই এলাকায় অবস্থিত, যেখানে ইসরায়েল নতুন একটি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সড়কের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি যানবাহনকে পৃথক পথে সরিয়ে দেওয়া হবে এবং ই১ (E1) এলাকায় ফিলিস্তিনিদের প্রবেশ সীমিত করার উদ্দেশ্য রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, মঙ্গলবার পরিচালিত এই উচ্ছেদ অভিযানের আগে এক সপ্তাহেরও কম সময় পূর্বে দোকানমালিকদের কাছে ‘পারমিট ছাড়া নির্মাণ’ অভিযোগে উচ্ছেদের নোটিশ পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দোকান মালিকরা ইসরায়েলি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলেও সেই আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থাতেই উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপকে ইসরায়েলের বৃহত্তর অবকাঠামো ও পরিবহন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনি আইডি ধারীদের জন্য আলাদা সড়ক ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে, যা দখলকৃত অঞ্চলে চলাচলের কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে পারে।
উচ্ছেদকৃত দোকানগুলো স্থানীয় বাণিজ্যিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বলে জানা গেছে। এতে বিভিন্ন ছোট ব্যবসা পরিচালিত হতো, যা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল।
একজন দোকান মালিক মোহাম্মদ আবু ঘালিয়ে বলেন, তার পরিবার দীর্ঘ প্রায় ৪৮ বছর ধরে এই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। তিনি জানান, তার বাবা বহু বছর কঠোর পরিশ্রম করে এই ব্যবসা গড়ে তুলেছিলেন, যা এক রাতের মধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে।
ঘটনাস্থলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। বুলডোজার ব্যবহারের মাধ্যমে একাধিক দোকান সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, ফলে বহু ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উচ্ছেদ অভিযান দখলকৃত পশ্চিম তীরে চলমান বসতি সম্প্রসারণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনি পক্ষ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বিদ্যমান।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ধরনের উচ্ছেদ কার্যক্রমের কারণে তাদের জীবিকা এবং ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে এলাকায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কারণে ভবিষ্যতে আরও উচ্ছেদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
ঘটনাটি দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেম ও আশপাশের অঞ্চলে ভূমি ব্যবহার, অবকাঠামো পরিকল্পনা এবং বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে চলমান উত্তেজনার আরেকটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
