ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি এবং তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১০)। গ্রেপ্তারকৃতরা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। গত মঙ্গলবার (১৩ মে) দিবাগত রাতে রাজধানীর বংশাল এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।
Table of Contents
মামলার প্রেক্ষাপট ও ঘটনার বিবরণ
নবাবগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৫ ফেব্রুয়ারি। অভিযোগ রয়েছে, ঐদিন নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের বিলপল্লী-শান্তিনগর গ্রামের বাসিন্দা অভিযুক্ত মঙ্গল (৬০) ভুক্তভোগী শিশুটিকে কৌশলে তার নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির ওপর জোরপূর্বক শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ চালানো হয়। এই জঘন্য অপরাধের সময় মঙ্গলের স্ত্রী লিপি বেগম (৪৫) তাকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেন এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুটি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের অবগত করে। পরবর্তীতে শিশুটির অভিভাবক বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রী এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
র্যাবের অভিযান ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া
মামলাটি দায়ের হওয়ার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসামিদের অবস্থান শনাক্তে তৎপরতা শুরু করে। র্যাব-১০ এর একটি চৌকস দল গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে র্যাব জানতে পারে যে, আসামিরা রাজধানীর বংশাল এলাকায় আত্মগোপন করে আছেন।
উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে ১৩ মে দিবাগত রাতে র্যাবের একটি আভিযানিক দল বংশাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মামলার প্রধান আসামি মঙ্গল এবং তার স্ত্রী ও সহযোগী লিপি বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে।
আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা
র্যাব কর্তৃক গ্রেপ্তারের পর বুধবার সকালে আসামিদের নবাবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়। এই বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হানিফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে ইতিমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রাসঙ্গিক তথ্য ও আইনগত ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, শিশু ধর্ষণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) এর ধারা ৯(১) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তবে তিনি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন। এছাড়া একই আইনের ৩০ ধারা অনুযায়ী, অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করাও সমপরিমাণ অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
নবাবগঞ্জের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় র্যাবের দ্রুত পদক্ষেপ এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি এলাকায় স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে যাতে অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। রাজধানীর জনাকীর্ণ এলাকা বংশালে ছদ্মবেশে অবস্থান করেও তারা শেষ পর্যন্ত র্যাবের জালে আটকা পড়েন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমাজে এ ধরনের অপরাধ দমনে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তাদের এই কঠোর অবস্থান ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আদালত আসামিদের রিমান্ড বা জেল হাজতে পাঠানোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।