মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণে দণ্ড সুদের হার কমালো বাংলাদেশ ব্যাংক

ঋণের কিস্তি নির্ধারিত সময়ে পরিশোধে ব্যর্থ হলে গ্রাহকের ওপর আরোপিত দণ্ড সুদের হার কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ (ওভারডিউ) ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ০ দশমিক ৫ শতাংশ হারে দণ্ড সুদ আরোপ করতে পারবে ব্যাংকগুলো। এতদিন এই হার সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল।

বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়। সার্কুলারটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিনিয়োগ কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যয় কমানোর লক্ষ্যেই দণ্ড সুদের হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কারণে ২০২৪ সালের ৮ মে জারি করা আগের সার্কুলার সংশোধন করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ঋণ বা ঋণের কিস্তি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ হলে তা ওভারডিউ হিসেবে গণ্য হবে এবং সেই সময়ের জন্য নির্ধারিত নিয়মে দণ্ড সুদ আরোপ করা যাবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চলমান ঋণ ও তলবি ঋণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ঋণস্থিতির ওপর দণ্ড সুদ প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে কেবল মেয়াদোত্তীর্ণ কিস্তির ওপর এই সুদ আরোপ করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পূর্বের তুলনায় দণ্ড সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। আগে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে এই সুদ আরোপের সুযোগ ছিল, যা এখন কমিয়ে ০ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে ঋণ পরিশোধে বিলম্ব হলে গ্রাহকের ওপর আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে উৎপাদনমুখী খাত এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অর্থায়নের ব্যয় কমিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনার লক্ষ্য রয়েছে।

সার্কুলারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, দণ্ড সুদের হার পরিবর্তন করা হলেও আগের সার্কুলারের অন্যান্য সব নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ ঋণ শ্রেণিবিন্যাস, আদায় প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য শর্তাবলি আগের মতোই বহাল থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো এখন থেকে নতুন হারের ভিত্তিতেই মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের ওপর দণ্ড সুদ আরোপ করবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দণ্ড সুদের হার কমানোর এই সিদ্ধান্ত ঋণগ্রহীতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনতে পারে এবং ব্যবসায়িক খাতে নগদ প্রবাহের চাপ হ্রাস করতে সহায়তা করতে পারে।