ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে। একই সঙ্গে নতুন রোগী ভর্তি ও চিকিৎসাধীন অবস্থার তথ্যও জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান সোমবার (১১ মে) সকালে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মৃত শিশুটির নাম সুমাইয়া আক্তার (৭)। সে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার উজ্জল মিয়ার মেয়ে। গত ৮ মে হামের উপসর্গ দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
Table of Contents
ভর্তি ও চিকিৎসার সামগ্রিক চিত্র
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১২৪৪ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১১২৭ জন শিশু সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৮৯ জন শিশু। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ২৮ জন শিশুর।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৪ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৫ জন শিশু।
নিচে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট ভর্তি শিশু | ১২৪৪ জন |
| ছাড়পত্রপ্রাপ্ত শিশু | ১১২৭ জন |
| বর্তমানে চিকিৎসাধীন | ৮৯ জন |
| মোট মৃত্যু | ২৮ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি | ২৪ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র | ৩৫ জন |
পরিবারের অভিযোগ ও কষ্টের কথা
মৃত শিশুর বাবা উজ্জল মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “শুধু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের সংকটের কারণেই আজ আমার মেয়েকে হারাতে হলো। শেষ কয়েক দিন ধরে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, তাকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও বিশেষ চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু কোনো শয্যা পাওয়া যায়নি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সন্তানকে বাঁচাতে পারিনি। এত বড় একটি হাসপাতালে যদি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? এমন অব্যবস্থাপনার কারণে শিশুদের প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো বাবা-মাকে এভাবে সন্তানের মৃত্যু দেখতে না হয়, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।”
হাসপাতালের ব্যাখ্যা
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, শিশুটি হামের উপসর্গের পাশাপাশি আরও কিছু শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল। তার অবস্থা শুরু থেকেই সংকটাপন্ন ছিল। তিনি জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী নিবিড় পরিচর্যা সুবিধা পাওয়া গেলে হয়তো শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হতো, তবে অন্যান্য জটিলতাও তার মৃত্যুর ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।
সার্বিক পরিস্থিতি
হামের মতো সংক্রামক রোগ সাধারণত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। উপসর্গ হিসেবে জ্বর, শরীরে র্যাশ, কাশি ও দুর্বলতা দেখা দেয়। হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসপাতালে রোগী ভিড়, শয্যা সংকট এবং নিবিড় পরিচর্যা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা চিকিৎসা সেবায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
