খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই মে ২০২৬, ১১:৫১ এএম

পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বিশ্বখ্যাত অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ‘হিলাল-ই-ইমতিয়াজ’-এ ভূষিত হয়েছেন। ক্রিকেটে সুদীর্ঘ ও অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়। পাকিস্তানের ইতিহাসে পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে আফ্রিদি এই বিরল গৌরব অর্জন করলেন। দেশটির রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি তার সরকারি বাসভবন আইওয়ান-ই-সদরে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এই কৃতি ক্রিকেটারের গলায় পদক পরিয়ে দেন।
Table of Contents
শহীদ আফ্রিদির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার বর্ণাঢ্য সাফল্যে ঘেরা। বিশেষ করে ২০০৯ সালে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে তিনি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। ইংল্যান্ডের ঘরোয়া কাউন্টি ক্রিকেট এবং ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস’-এ তার নিবেদন ও ক্রীড়াশৈলী এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। ৪৬ বছর বয়সী এই তারকা খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিনটি সংস্করণ মিলিয়ে সর্বমোট ৫২৪টি ম্যাচ খেলেছেন।
আফ্রিদির পাশাপাশি পাকিস্তানের ক্রিকেটের প্রধান স্থপতি এবং দেশটির প্রথম টেস্ট অধিনায়ক আব্দুল হাফিজ কারদারকে মরণোত্তর হিলাল-ই-ইমতিয়াজ প্রদান করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ২৬টি টেস্ট খেলা কারদারকে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী হিসেবে সম্মান জানানো হয়।
শহীদ আফ্রিদির খেলোয়াড়ি জীবনের প্রধান অর্জনসমূহ নিচে সারণিবদ্ধ করা হলো:
| বিভাগ | ম্যাচ সংখ্যা | মোট রান | উইকেট সংখ্যা | শতক/অর্ধশতক |
| একদিনের আন্তর্জাতিক | ৩৯৮ | ৮০৬৪ | ৩৯৫ | ০৬ / ৩৯ |
| আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি | ৯৯ | ১৪১৬ | ৯৮ | ০০ / ০৪ |
| টেস্ট ক্রিকেট | ২৭ | ১৭১৬ | ৪৮ | ০৫ / ০৮ |
| সর্বমোট | ৫২৪ | ১১,১৯৬ | ৫৪১ | ১১ / ৫১ |
শহীদ আফ্রিদির পূর্বে মাত্র চারজন পাকিস্তানি ক্রিকেটার এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা লাভ করেছেন। পূর্ণাঙ্গ তালিকাটি নিচে দেওয়া হলো:
ইমরান খান
ওয়াসিম আকরাম
ওয়াকার ইউনিস
আব্দুল হাফিজ কারদার (মরণোত্তর)
শহীদ আফ্রিদি
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরেও শহীদ আফ্রিদি বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ ছিলেন। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং কার্যকরী লেগ স্পিন তাকে প্রতিটি লিগেই অপরিহার্য করে তুলেছিল। তিনি বিশ্বের উল্লেখযোগ্য প্রায় সকল লিগে অংশগ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)
বিগ ব্যাশ লিগ (অস্ট্রেলিয়া)
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল – উদ্বোধনী মৌসুম)
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল)
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল)
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি
এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গ্রহণের পর শহীদ আফ্রিদি তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গভীর আবেগ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি এই পদক প্রাপ্তিকে তার জীবনের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আফ্রিদি জানান, এই সম্মাননা কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি সমগ্র পাকিস্তানি জাতির প্রতি একটি শ্রদ্ধা। তিনি তার এই দীর্ঘ পথচলায় ভক্তদের ভালোবাসা, নিরন্তর প্রার্থনা এবং নিঃস্বার্থ সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। পরিশেষে, তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ পদকটি পাকিস্তানের সেই সকল বীর সন্তানদের নামে উৎসর্গ করেছেন, যারা মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। এই স্বীকৃতি তার বর্ণিল ক্রিকেটীয় জীবনের এক অনন্য মুকুট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলো।
মন্তব্য