মুন্সীগঞ্জে গরু চুরির অভিযোগে যুবলীগ নেতাসহ দুই জন গ্রেফতার

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় গরু চুরির অভিযোগে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শনিবার (৯ মে) রাতে উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের হাজীগাঁও এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। ধৃত ব্যক্তিদের মধ্যে সোহেল (৩৭) স্থানীয় যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। তার সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া অন্য ব্যক্তি পেশায় কসাই এবং তার নাম মকবুল (৩৫)।

ঘটনার বিবরণ ও পটভূমি

গত ৬ মে দুপুরের দিকে সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের ঘোরামারা গ্রামের বাসিন্দা শুসংকর মন্ডলের একটি লাল রঙের ষাঁড় গরু চুরি হয়। ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাড়ির সামনে থেকে কৌশলে চোরচক্র গরুটি নিয়ে পালিয়ে যায়। চুরির এই ঘটনাটি স্থানীয় একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সিসিটিভি ফুটেজে সোহেলসহ আরও কয়েকজনকে গরু চুরির প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর অপরাধীদের শনাক্তের চাপ বাড়ে।

গ্রেফতার অভিযান ও উদ্ধারকৃত আলামত

ঘটনার পর ভুক্তভোগী শুসংকর মন্ডল সিরাজদিখান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে শনিবার রাতে হাজীগাঁও এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে প্রথমে সোহেলকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সহযোগী কসাই মকবুলকে বাসাইল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেন যে, তারা চোরাই গরুটি জবাই করে মাংস বিক্রি করে দিয়েছেন। পুলিশ কসাই মকবুলের ফ্রিজ তল্লাশি করে জবাই করা গরুর চারটি পা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এছাড়া গরু বিক্রির লভ্যাংশ হিসেবে নগদ ৫ হাজার ৬৭৫ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও বিবরণ

ক্রমিকনামবয়সপরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থানপিতার নামঠিকানা
সোহেল৩৭প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, কেয়াইন ইউনিয়ন যুবলীগমো. ইসরাফিল (সাধারণ সম্পাদক, কেয়াইন ইউনিয়ন আ.লীগ)হাজীগাঁও, কেয়াইন ইউনিয়ন
মকবুল৩৫পেশাদার কসাই ও চুরির সহযোগীমৃত মোকলেস মিয়াবাসাইল এলাকা, সিরাজদিখান

আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের বক্তব্য

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান গণমাধ্যমকে জানান, সিসিটিভি ফুটেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। চুরির ঘটনার সত্যতা এবং অপরাধীদের সম্পৃক্ততা প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। ধৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এই চুরির ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও অপরাধের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই চুরির ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।