দেশে হাম ও হামের উপসর্গজনিত পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে ৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনসহ মোট ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া বর্তমান সংক্রমণের ধারায় এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৪৪ জন এবং হাম নিশ্চিত হওয়া ৬৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
Table of Contents
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যান
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আজ রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ২০৫টি শিশুর দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ১ হাজার ৫০৩টি শিশুর মধ্যে হামের প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দেয়, যার মধ্যে ১ হাজার ২৭৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আক্রান্ত ও ভর্তিকৃত শিশুদের একটি বড় অংশই ঢাকা বিভাগের।
বিভাগীয় মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে:
হামে মৃত্যু (৪ জন): মৃত চার শিশুর মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন বরিশাল বিভাগের।
হামের উপসর্গে মৃত্যু (৭ জন): ঢাকা বিভাগে ৩ জন, সিলেট বিভাগে ২ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক সংক্রমণের চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ২৭৮ জন শিশুর মধ্যে ৪৯৬ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। তবে একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১ হাজার ১১৬টি শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে, যার মধ্যে ৪৪৩ জন ঢাকা বিভাগের।
সামগ্রিক পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত সারণি
গত ১৫ মার্চ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গজনিত পরিস্থিতির একটি তুলনামূলক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | মোট সংখ্যা |
| হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া মোট শিশু | ৪৯,১৫৯ জন |
| হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট শিশু | ৩৪,৯০৯ জন |
| ল্যাব পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়া শিশু | ৬,৮১৯ জন |
| হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়া পাওয়া শিশু | ৩০,৮৬২ জন |
| হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যু | ৩৪৪ জন |
| নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু | ৬৫ জন |
বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের প্রকোপ দৃশ্যমান হতে শুরু করে। শুরুর দিকে সংক্রমণের হার কম থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং যেসব অঞ্চলে টিকাদানের হার তুলনামূলক কম, সেখানে সংক্রমণের তীব্রতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছেন। আক্রান্ত শিশুদের ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং যাদের মধ্যে প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, তাদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চ জ্বর, শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিলম্ব না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের মতো বড় শহরগুলোতে সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সতর্কতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
