চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় হালিমা আক্তার মুন্নি (২১) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১০ মে) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের পশ্চিম বরৈয়া এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত মুন্নির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সকল সদস্য পলাতক রয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বিবরণ
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হালিমা আক্তার মুন্নি উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের কাঞ্চন মুন্সির বাড়ির মো. ইসহাকের মেয়ে। দুই বছর আগে পশ্চিম বরৈয়া এলাকার কালু মাঝির বাড়ির নবী হোসেনের ছেলে মিজানুর রহমানের সাথে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের এক বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
নিহতের বাবার দাবি অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই যৌতুক বা পারিবারিক নানা কারণে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মুন্নির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। ইতিপূর্বে এসব কলহ নিরসনে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক ও মীমাংসা করা হয়েছিল। তবে নির্যাতনের ধারা বন্ধ হয়নি। রবিবার ভোরে খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে মুন্নির মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
পরিবারের অভিযোগ ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ
নিহতের বাবা মো. ইসহাক অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে মুন্নির পা মাটির সাথে ঠেকে ছিল এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়েছে। তার মতে, এটি কোনোভাবেই আত্মহত্যা হতে পারে না, বরং হত্যার পর ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
নিচে নিহতের পরিচয় ও ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সারণি আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
| নিহতের নাম | হালিমা আক্তার মুন্নি (২১) |
| পিতার নাম | মো. ইসহাক |
| স্বামীর নাম | মিজানুর রহমান |
| স্থায়ী ঠিকানা | গ্রাম: রায়পুর (কাঞ্চন মুন্সির বাড়ি), আনোয়ারা |
| ঘটনাস্থল | পশ্চিম বরৈয়া (কালু মাঝির বাড়ি), বটতলী ইউনিয়ন |
| নিহতের সন্তান | ১ বছর বয়সী কন্যাসন্তান |
| মরদেহ উদ্ধারের সময় | ১০ মে, ভোর ৬টা (আনুমানিক) |
| বর্তমান অবস্থা | শ্বশুরবাড়ির সকলে পলাতক |
পুলিশের বক্তব্য ও আইনগত পদক্ষেপ
খবর পেয়ে আনোয়ারা থানার এসআই মো. বাশার সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। তিনি জানান, পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তখন নিহতের বাবার বাড়ির লোকজন সেখানে উপস্থিত থাকলেও শ্বশুরবাড়ির কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাড়িটি তখন জনশূন্য ছিল।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে আঘাতের চিহ্নের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে এবং পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ঘটনাটি কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিহতের পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
