যশোরের শার্শা উপজেলার বসতপুর পূর্বপাড়ায় পরকীয়া সম্পর্ক, পাওনা টাকা এবং ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এক যুবককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ মাটির নিচে পুঁতে রাখার ঘটনা এক মাস পর উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত যুবকের নাম ইকরামুল কবির (২৫)। তিনি শার্শা উপজেলার পুটখালি ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর শনিবার রাতে বসতপুর গ্রামের একটি গোয়ালঘরের মাটির নিচ থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ইকরামুল কবিরের সঙ্গে বসতপুর পূর্বপাড়ার আল ফারহাদের স্ত্রী মুন্নীর (২২) পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের পাশাপাশি ইকরামুলের কাছে মুন্নীর স্বামী আল ফারহাদের কিছু অর্থ পাওনা ছিল বলে জানা যায়। অভিযোগ রয়েছে, ওই টাকা আনতে এবং সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য ইকরামুল শেষবারের মতো ৮ এপ্রিল রাতে তার বোনের বাড়ি সেতাই এলাকা থেকে বের হন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি ও অভিযোগ করা হয়। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নামে এবং প্রথমে আল ফারহাদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই হত্যাকাণ্ডের মূল সূত্র পাওয়া যায়।
শনিবার রাতে পুলিশের একটি দল বসতপুর পূর্বপাড়ায় অভিযান চালিয়ে গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে ইকরামুলের লাশ উদ্ধার করে। লাশটি দীর্ঘদিন মাটির নিচে থাকায় অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় পুলিশ আল ফারহাদ, তার স্ত্রী মুন্নী, মুন্নীর বাবা ফজলু মোড়ল এবং মুন্নীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাকলি আক্তারকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যা, গোপন লাশ গুম এবং অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্তদের তথ্য সংক্ষেপ
| নাম | পরিচয় | অভিযোগ |
|---|---|---|
| আল ফারহাদ | মুন্নীর স্বামী | হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততা |
| মুন্নী | ইকরামুলের কথিত প্রেমিকা | ষড়যন্ত্র ও সহযোগিতা |
| ফজলু মোড়ল | মুন্নীর বাবা | লাশ গুমে সহায়তা |
| কাকলি আক্তার | সহযোগী | অপহরণ ও ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত |
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে পরকীয়া সম্পর্ক ও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ইকরামুলকে শ্বাসরোধ বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করা হয়। এরপর পরিকল্পিতভাবে লাশ গোয়ালঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়, যাতে ঘটনাটি আড়াল করা যায়।
লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় শত শত মানুষ ভিড় করে। পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা বলছেন, এমন নৃশংস ঘটনা আগে এলাকায় দেখা যায়নি।
নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলে অপহরণ করা হয় এবং পরবর্তীতে মুক্তিপণ হিসেবে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবার চরম দুশ্চিন্তায় ছিল।
শার্শা থানার পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে পুরো ঘটনার বিস্তারিত সত্যতা বের করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
