দেশজুড়ে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, তাপমাত্রা সামান্য কমবে

আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের সব বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার সকালে প্রকাশিত পূর্বাভাসে জানানো হয়, এই সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো এবং বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের দু–একটি স্থানে এই ধরনের আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সারাদেশে প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বর্তমানে পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এছাড়া আগামী ১১ মের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তার আশপাশের এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা সামগ্রিক আবহাওয়া পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে দিনাজপুর জেলায়, যেখানে ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়।

বিভিন্ন বিভাগের সম্ভাব্য আবহাওয়ার অবস্থা

বিভাগসম্ভাব্য আবহাওয়ার অবস্থা
রংপুরবজ্রসহ বৃষ্টি, দমকা হাওয়া সম্ভাবনা
রাজশাহীবজ্রসহ বৃষ্টি ও বিদ্যুৎ চমকানোর সম্ভাবনা
ঢাকাঅস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি
ময়মনসিংহবজ্রসহ বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া
খুলনাবজ্রবৃষ্টি ও দমকা হাওয়া
বরিশালবজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা
চট্টগ্রামবজ্রবৃষ্টি ও অস্থায়ী ঝোড়ো হাওয়া
সিলেটবজ্রসহ বৃষ্টি ও বিদ্যুৎ চমকানো

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই সময়ে বৃষ্টির বণ্টন একরকম নাও হতে পারে এবং কিছু এলাকায় স্বল্প সময়ের জন্য ঝোড়ো আবহাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ চমকানোসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় উন্মুক্ত স্থানে অবস্থানকারীদের সতর্ক থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া দিনের তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকলেও রাতের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের সামগ্রিক আবহাওয়ার এই পরিবর্তন মূলত লঘুচাপজনিত বায়ুচাপ ব্যবস্থার প্রভাবে সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টার তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার ভিন্নতা দেখা গেছে, যেখানে একদিকে গরমের প্রভাব ছিল, অন্যদিকে কিছু এলাকায় তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।