নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় গ্যাসের লাইনে লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের শিশুসহ পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। আজ রোববার ভোরে উত্তর ভূঁইগড় গিরিধারা এলাকার ৬ নম্বর সড়কে শাহজাহান মিয়ার মালিকানাধীন আটতলা ভবনের নিচতলার পশ্চিম পাশের একটি ফ্ল্যাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন ভাড়াটে ও সবজি বিক্রেতা মো. কালাম (৩৫), তাঁর স্ত্রী সায়মা (৩২), ছেলে মুন্না (৭) এবং দুই মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৭)। তাঁদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বরুকদিয়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধার সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ভোরের দিকে ফ্ল্যাটের রান্নাঘরের গ্যাস লাইনে লিকেজ থাকার কারণে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে ছিল। ওই অবস্থায় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে রান্নাঘরসহ ফ্ল্যাটের বিভিন্ন অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং জানালার কাচ ভেঙে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনের সীমানাপ্রাচীরের একটি অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠান।
উদ্ধারকারী পথচারী রাকিবের বরাত দিয়ে জানা যায়, ঘটনার সময় পরিবারটির সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হলে ঘরের ভেতরে আগুন ধরে যায় এবং তারা আতঙ্কিত অবস্থায় বের হওয়ার চেষ্টা করেন। গৃহকর্তা মো. কালাম পরে জানান, ভোরে রান্নাঘরে চুলা জ্বালানোর চেষ্টা করার সময়ই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রান্নাঘরের গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে কক্ষে গ্যাস জমে ছিল। ওই অবস্থায় আগুনের সংস্পর্শে আসার কারণে বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধ পাঁচজনের মধ্যে মো. কালামের শরীরের ৯৫ শতাংশ, তাঁর স্ত্রী সায়মার ৬০ শতাংশ, ছেলে মুন্নার ৩০ শতাংশ, মেয়ে মুন্নির ৩৫ শতাংশ এবং কথা ৫২ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাঁরা জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দগ্ধদের অবস্থা সংক্ষেপ
| নাম | সম্পর্ক | বয়স | দগ্ধের পরিমাণ |
|---|---|---|---|
| মো. কালাম | গৃহকর্তা | ৩৫ বছর | ৯৫ শতাংশ |
| সায়মা | স্ত্রী | ৩২ বছর | ৬০ শতাংশ |
| মুন্না | ছেলে | ৭ বছর | ৩০ শতাংশ |
| মুন্নি | মেয়ে | ১০ বছর | ৩৫ শতাংশ |
| কথা | মেয়ে | ৭ বছর | ৫২ শতাংশ |
ঘটনাস্থল ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পুরো পরিবারই বর্তমানে হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।