২০২৬ অর্থবছর শেষে ভারতের সাধারণ বিমা (নন-লাইফ ইনস্যুরেন্স) খাতে স্বাস্থ্য বিমার আধিপত্য আরও সুসংহত হয়েছে। দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ খাতে স্বাস্থ্য বিমার বাজার অংশীদারিত্ব পূর্ববর্তী বছরের ৩৮.৬% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৪০.৮%-এ দাঁড়িয়েছে। সামগ্রিক অ-জীবন বিমা খাতের প্রবৃদ্ধির হারের তুলনায় স্বাস্থ্য বিমা খাতের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
Table of Contents
খাতের সামগ্রিক পারফরম্যান্স ও প্রিমিয়াম সংগ্রহ
২০২৬ অর্থবছরে ভারতের সাধারণ বিমা খাতের মোট গ্রস ডাইরেক্ট প্রিমিয়াম আয় (GDPI) প্রায় ৩.৪ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই খাতের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৯.৩%। তবে এককভাবে স্বাস্থ্য বিমা বিভাগে প্রিমিয়াম সংগ্রহের পরিমাণ ১৫.৪% বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১.৪ লক্ষ কোটি টাকা (সঠিকভাবে ১,৩৭,১৪৪.৫ কোটি টাকা) হয়েছে। এই তথ্য নির্দেশ করে যে, সাধারণ বিমা খাতের চালিকাশক্তি হিসেবে স্বাস্থ্য বিমা ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
স্বাস্থ্য বিমা খাতের মোট প্রিমিয়ামের ৩২.৭% অবদান রেখেছে একক স্বাস্থ্য বিমা সংস্থাগুলো (Standalone Health Insurers)। তাদের সংগৃহীত প্রিমিয়ামের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৪,৮৬৩.৭ কোটি টাকা।
শীর্ষস্থানীয় বিমা সংস্থাসমূহের অবস্থান
স্বাস্থ্য বিমা বাজারে নিউ ইন্ডিয়া অ্যাস্যুরেন্স (New India Assurance) তাদের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২১,৫৩১.৫ কোটি টাকার প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে, যা বাজারের ১৫.৭% অংশীদারিত্ব নির্দেশ করে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে স্টার হেলথ অ্যান্ড অ্যালাইড ইন্স্যুরেন্স, যাদের প্রিমিয়াম সংগ্রহ ১৮,৪৩৫ কোটি টাকা এবং বাজার অংশীদারিত্ব ১৩.৪%। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেয়ার হেলথ ইন্স্যুরেন্স ৯,৭৬৮.৪ কোটি টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ৭.১% বাজার অংশীদারিত্ব অর্জন করেছে। এছাড়া আইসিআইসিআই লম্বার্ড এবং নিভা বুপা হেলথ ইন্স্যুরেন্সও এই খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে।
অন্যান্য বিমা বিভাগের তুলনামূলক চিত্র
সাধারণ বিমা খাতের অন্যান্য বিভাগের মধ্যে ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বিমা (Personal Accident Insurance) সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিভাগের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩৫% এবং বাজার অংশীদারিত্ব ২.৮% থেকে বেড়ে ৩.৫% হয়েছে। প্রকৌশল (Engineering) বিমা ১৩.১% বৃদ্ধি পেয়ে ৬,৮০১.৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। দায়বদ্ধতা (Liability) বিমা খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৯.৬%, যার বাজার অংশীদারিত্ব ১.৮% এ স্থিতিশীল রয়েছে।
তবে কিছু বিভাগে প্রবৃদ্ধির গতি ধীর ছিল। সামুদ্রিক (Marine) বিমার অংশীদারিত্ব ১.৮% থেকে সামান্য কমে ১.৭% এ দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে এভিয়েশন বা বিমান বিমা খাতের প্রিমিয়াম সংগ্রহে ০.৮% সংকোচন দেখা গেছে।
২০২৬ অর্থবছরে অ-জীবন বিমা খাতের পরিসংখ্যান চিত্র
| বিমা বিভাগের নাম | সংগৃহীত প্রিমিয়াম (কোটি টাকা) | বাজার অংশীদারিত্ব (%) | প্রবৃদ্ধির হার (%) |
| স্বাস্থ্য বিমা (Health) | ১,৩৭,১৪৪.৫ | ৪০.৮% | ১৫.৪% |
| ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা (Personal Accident) | ১১,৬০৩.৭ | ৩.৫% | ৩৫.০% |
| প্রকৌশল (Engineering) | ৬,৮০১.৫ | ২.০% | ১৩.১% |
| সামুদ্রিক (Marine) | ৫,৮১৯.৫ | ১.৭% | ৫.৭% |
| দায়বদ্ধতা (Liability) | ৫,৯৯৩.৩ | ১.৮% | ৯.৬% |
| বিমান (Aviation) | ১,০৮৯.৩ | – | (-) ০.৮% |
প্রধান বিমা সংস্থাসমূহের বাজার হিস্যা (স্বাস্থ্য বিভাগ)
১. নিউ ইন্ডিয়া অ্যাস্যুরেন্স: ২১,৫৩১.৫ কোটি টাকা (১৫.৭%)
২. স্টার হেলথ অ্যান্ড অ্যালাইড: ১৮,৪৩৫ কোটি টাকা (১৩.৪%)
৩. কেয়ার হেলথ ইন্স্যুরেন্স: ৯,৭৬৮.৪ কোটি টাকা (৭.১%)
উপযুক্ত উপাত্তসমূহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ভারতের সাধারণ বিমা শিল্পে গ্রাহকদের অগ্রাধিকারের তালিকায় স্বাস্থ্য বিমা প্রথম সারিতে উঠে এসেছে। সামগ্রিক বিমা খাতের গড় প্রবৃদ্ধির তুলনায় স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বিমার উচ্চ প্রবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিমা সচেতনতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে নিউ ইন্ডিয়া অ্যাস্যুরেন্সের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত খাতের স্টার হেলথ বা কেয়ার হেলথের মতো সংস্থাগুলো প্রতিযোগিতামূলকভাবে বাজার সম্প্রসারণ করছে। অন্যদিকে বিমান বা সামুদ্রিক বিমার মতো বাণিজ্যিক বিমা ক্ষেত্রগুলোতে প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি লক্ষ্য করা গেছে।
