হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সৌদি আরব ও কুয়েতের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার কারণে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং দেশটির আকাশসীমা ব্যবহার করে মার্কিন সামরিক বিমান চলাচলের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। একই সঙ্গে কুয়েতও তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে দেয়।
এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার হঠাৎ করেই ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা করলে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। এ ঘোষণার পরপরই আঞ্চলিক পর্যায়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়, তবে প্রত্যাশিত সমন্বয় হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করলেও সেখানে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। সৌদি পক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি খুব দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় তা সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগকে সৌদি আরব সমর্থন করছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা দাবি করেন, অভিযান শুরুর আগে আঞ্চলিক মিত্রদের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তবে একজন মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিক জানান, ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র মূলত ওমানের সঙ্গেই যোগাযোগ করে এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় পরে করা হয়।
এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও কুয়েত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, তাদের আকাশসীমা বা সামরিক অবকাঠামো এ অভিযানে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। ফলে পরিকল্পিত নৌ-অভিযানটি আপাতত স্থগিত করতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত স্থগিত হওয়ার পরপরই ইরান হরমুজ প্রণালি এলাকায় তাদের প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করে। দেশটির বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা জানায়, ওই অঞ্চলে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি, খাদ্য এবং চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নিচে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| পক্ষ | অবস্থান |
|---|---|
| যুক্তরাষ্ট্র | হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অভিযান পরিকল্পনা, পরে স্থগিত |
| সৌদি আরব | আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি প্রত্যাখ্যান |
| কুয়েত | মার্কিন ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা |
| ইরান | বাণিজ্যিক জাহাজে সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতি ঘোষণা |
| ওমান | যোগাযোগের প্রাথমিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় |
এই ঘটনার মাধ্যমে আঞ্চলিক কূটনৈতিক সমন্বয়, সামরিক পরিকল্পনা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থান একসঙ্গে আলোচনায় এসেছে, যা হরমুজ প্রণালির সামরিক ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে।
