পীরগঞ্জে সেচঘরে কৃষকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার ঘটনা

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের উমরপুর এলাকায় একটি সেচঘর থেকে এক কৃষকের পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানাজানি হয় এবং পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত ব্যক্তির নাম মফিজার রহমান। তিনি নিয়মিতভাবে স্থানীয় কৃষিজমিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সেচ ব্যবস্থার ট্রান্সফরমার পাহারার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন বলে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। তাঁর দায়িত্ব ছিল রাতে সেচযন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার তিনি প্রতিদিনের মতোই উমরপুর মাঠে অবস্থিত সেচঘরে পাহারার জন্য যান। পরদিন সকালে একই এলাকার শহিদুল ইসলাম নামের এক কৃষক গরু নিয়ে মাঠে যাওয়ার সময় সেচঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। একই সঙ্গে তিনি সেচ ট্রান্সফরমারটি খোলা অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তিনি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করলে মফিজার রহমানের পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন।

স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, গভীর রাতে সেচ ট্রান্সফরমার চুরির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা সেখানে প্রবেশ করে। এ সময় বাধা পেয়ে মফিজার রহমানকে হত্যা করা হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। একই সঙ্গে তারা মনে করছেন, দুর্বৃত্তরা ট্রান্সফরমারটি নিয়ে পালিয়ে গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।

নিচে ঘটনাটির প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
এলাকাবড় আলমপুর ইউনিয়ন, উমরপুর, পীরগঞ্জ
নিহত ব্যক্তিমফিজার রহমান
ঘটনাস্থলসেচঘর (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সেচ ব্যবস্থা সংলগ্ন)
সময়বুধবার রাত (ঘটনা সংঘটনের সময়), বৃহস্পতিবার সকাল (উদ্ধার)
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণসেচ ট্রান্সফরমার খোলা, ঘর খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়
স্থানীয় ধারণাচুরির উদ্দেশ্যে এসে দুর্বৃত্তদের হামলা
আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপীরগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে তদন্ত শুরু

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজমুল হক জানান, উমরপুর এলাকায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সেচ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলমান রয়েছে।