রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে পাঁচ মাস বয়সী শিশু মো. তাকরিমের মৃত্যু হয়েছে এবং পরে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত বুধবার সকালে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। শিশুটির বাড়ি ভোলা জেলার বাংলাবাজার এলাকায়। বাবা মো. মহসীন ও মা আমেনা বেগম মরদেহ নিয়ে ভোলার উদ্দেশে রওনা দেন।
হাসপাতালে অবস্থানকালে শিশুটির মৃত্যু ঘিরে মা আমেনা বেগম বারবার শোকাহত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তবে এ প্রতিবেদনে কেবল ঘটনাপ্রবাহ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করা হলো।
Table of Contents
চিকিৎসা যাত্রার সংক্ষিপ্ত ধাপ
| ধাপ | স্থান | সময়/অবস্থা | চিকিৎসা ও ফলাফল |
|---|---|---|---|
| ১ | ভোলা সদর হাসপাতাল | প্রাথমিক পর্যায় | জ্বর, কাশি, র্যাশসহ চিকিৎসা; অ্যালার্জি হিসেবে চিকিৎসা দেওয়া হয় |
| ২ | ভোলা থেকে ঢাকা | অবস্থার অবনতি | উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর |
| ৩ | শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল | গুরুতর অবস্থা | হাম ও হাম–পরবর্তী নিউমোনিয়া শনাক্ত; পিআইসিইউ প্রয়োজন হয় |
| ৪ | ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল | শেষ পর্যায় | এনআইসিইউ/পিআইসিইউতে ভর্তি; সকাল ১০টায় মৃত্যু ঘোষণা |
শিশুটিকে প্রথমে ভোলার সদর হাসপাতালে জ্বর, কাশি ও র্যাশের কারণে ভর্তি করা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে হাসপাতাল ও চিকিৎসকের চেম্বারে দেখানো হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ভোলায় চিকিৎসকেরা দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটির রোগকে অ্যালার্জি হিসেবে বিবেচনা করেন।
পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে শিশুটিকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা হাম ও হাম–পরবর্তী নিউমোনিয়া এবং অন্যান্য জটিলতা শনাক্ত করেন। দুই দিন চিকিৎসার পর পিআইসিইউ প্রয়োজন হলে শিশুটিকে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসা ও মৃত্যুর তথ্য
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআইসিইউ ও পিআইসিইউর সিনিয়র রেজিস্ট্রার মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, শিশুটিকে একদম শেষ পর্যায়ে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও সকাল ১০টায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
মৃত্যুসনদ অনুযায়ী শিশুটির মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—
- হাম–পরবর্তী নিউমোনিয়া
- রক্তে জীবাণুর সংক্রমণ
- মস্তিষ্কে সংক্রমণ
- রক্তে পটাশিয়ামের ঘাটতি
এছাড়া শিশুটির জন্মগতভাবে হৃদযন্ত্রে ছিদ্র ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়।
আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তা
চিকিৎসার ব্যয় বাড়তে থাকলে পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়ে। এক পর্যায়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একজন মন্ত্রী শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর প্রতিনিধির মাধ্যমে হাসপাতালে চার লাখ টাকার বেশি বিল পরিশোধ করা হয় এবং পরিবারকে অতিরিক্ত এক লাখ টাকা দেওয়া হয়।
পরিবারের বক্তব্য ও প্রেক্ষাপট
শিশুটির বাবা মো. মহসীন পেশায় অটোরিকশা চালক। তিনি জানান, শুরু থেকেই রোগ শনাক্তে বিভ্রান্তি ছিল এবং সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় হলে ভিন্ন পরিস্থিতি হতে পারত কি না, সে প্রশ্ন তিনি তুলে ধরেন। পরিবার ভোলা ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় এক মাস ধরে চিকিৎসা করায়।
সারসংক্ষেপ
তাকরিমের চিকিৎসা যাত্রা ভোলা থেকে শুরু হয়ে ঢাকার তিনটি হাসপাতাল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ে জটিলতা, পরবর্তীতে গুরুতর সংক্রমণ এবং বহুমাত্রিক জটিলতার কারণে তার মৃত্যু ঘটে বলে চিকিৎসা নথিতে উল্লেখ রয়েছে। শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং তারা ভোলার উদ্দেশে রওনা দেন।