সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী তরুণ শাওনের অকাল মৃত্যু

আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটিতে দীর্ঘ আড়াই বছর পর পরিবারের সাথে মিলিত হওয়ার কথা ছিল ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা শাওন মির্জার। মায়ের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারলেন না তিনি। সৌদি আরবের রিয়াদে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এই তরুণ প্রবাসী। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে নিহতের পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

নিহত শাওন মির্জা (২৫) ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ছিলেন। তার পিতার নাম মৃত জাহিদ মির্জা এবং মাতার নাম ঝর্ণা বেগম। চার ভাই-বোনের মধ্যে শাওন ছিলেন একমাত্র ছেলে এবং সবার ছোট। মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে আড়াই বছর আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি রিয়াদ শহরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্র অনুসারে, শাওন সাম্প্রতিক সময়ে টেলিফোনে তার মায়ের সাথে আলাপকালে জানিয়েছিলেন যে, ভিডিও কলে কথা বলে তার মনের তৃপ্তি আসে না। তাই এবারের কোরবানির ঈদের আগেই তিনি দেশে ফিরবেন। কিন্তু গত সোমবার সন্ধ্যায় মোটরসাইকেল চালিয়ে স্থানীয় বাজারে যাওয়ার পথে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা একটি খেজুর গাছের সাথে সজোরে ধাক্কা খায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন মঙ্গলবার ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহত কর্মীর তথ্যাবলি ও প্রাপ্য সুবিধাসমূহ

শাওন মির্জা একজন বৈধ কর্মী হিসেবে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী বৈধভাবে বিদেশে কর্মরত অবস্থায় কোনো কর্মী মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবার নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক ও দাপ্তরিক সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হন। নিচে এ সংক্রান্ত তথ্যের একটি সারণি প্রদান করা হলো:

ক্রমিকবিষয়বস্তুতথ্যের বিবরণ
নিহতের পরিচয়শাওন মির্জা, পিতা: মৃত জাহিদ মির্জা
স্থায়ী নিবাসনওপাড়া, ভাঙ্গা, ফরিদপুর
বিদেশে অবস্থানকালপ্রায় ৩০ মাস (আড়াই বছর)
দুর্ঘটনার স্থানরিয়াদ, সৌদি আরব
মরদেহ দেশে আনার ব্যয়সরকার কর্তৃক বহনযোগ্য (আবেদন সাপেক্ষে)
দাফন বাবদ তাৎক্ষণিক অনুদান৩৫,০০০ টাকা
পরিবার কল্যাণ আর্থিক অনুদান৩,০০,০০০ টাকা
অন্যান্য আর্থিক দাবিবিমা ও প্রতিষ্ঠানের নিকট বকেয়া পাওনা

মরদেহ আনয়ন ও পরবর্তী প্রক্রিয়া

শাওন মির্জার একমাত্র পুত্র হিসেবে পরিবারের মূল অবলম্বন ছিলেন। তার মৃত্যুতে মা ও তিন বোন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পরিবারের এখন প্রধান দাবি হলো শাওনের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা।

ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, শাওন বৈধ শ্রমিক হওয়ায় তার মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়াটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন করা সম্ভব। মরদেহ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দাফনকার্যের জন্য তাৎক্ষণিক অনুদান প্রদান করা হবে এবং পরবর্তীতে বিমা ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়াও তার কর্মস্থলের প্রতিষ্ঠান থেকে চুক্তি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং মরদেহ দ্রুত ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে।