এজেন্ট কমিশন শূন্য বাস্তবায়ন তদারকি জোরদার

নন-লাইফ বীমা খাতে ব্যক্তি এজেন্ট কমিশন শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার চলমান উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে গঠিত ভিজিল্যান্স টিমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই ও শুনানি কমিটির তৃতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত শনিবার বাংলাদেশ বীমা সমিতির একটি সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অভিযোগ শুনানি কমিটির আহ্বায়ক বেলাল আহমেদ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নন-লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠানে এজেন্ট কমিশন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ শূন্য শতাংশে রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি সুসংগঠিত ও বহুমাত্রিক তদারকি কাঠামো কার্যকর করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার আলোকে বাংলাদেশ বীমা সমিতি এগারো সদস্যবিশিষ্ট একটি ভিজিল্যান্স টিম গঠন করেছে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে পৃথকভাবে সাত সদস্যের আরেকটি ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। এই দুটি টিম সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে এবং কমিশন সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম শনাক্ত ও প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

সভায় জানানো হয়, কমিশন সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা প্রথমে বীমা তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির মাধ্যমে যাচাই করা হয়। এরপর প্রাথমিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা হয়। যদি প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া যায়, তবে তা পরবর্তী ধাপে শুনানি কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়।

শুনানি কমিটি সংশ্লিষ্ট বীমা প্রতিষ্ঠান এবং অভিযোগকারী উভয় পক্ষকে শুনানির সুযোগ প্রদান করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য, নথিপত্র এবং প্রমাণাদি বিশদভাবে পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা এবং কমিশন ব্যবস্থাকে নির্ধারিত নীতিমালার মধ্যে রাখা।

অভিযোগ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার ধাপগুলো নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—

ধাপকার্যক্রম
প্রথম ধাপকমিশন সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ
দ্বিতীয় ধাপতথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে যাচাই
তৃতীয় ধাপপ্রাথমিক সত্যতা নির্ধারণ
চতুর্থ ধাপভিজিল্যান্স টিমে উপস্থাপন
পঞ্চম ধাপউভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ
ষষ্ঠ ধাপচূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ

সভায় আরও উল্লেখ করা হয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নন-লাইফ বীমা খাতে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান অনিয়ম ও স্বার্থসংঘাত হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কমিশন কাঠামোতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নীতিগত চর্চা আরও সুদৃঢ় হবে।

এছাড়া গ্রাহক পর্যায়ে আস্থা বৃদ্ধি এবং বীমা খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও এই তদারকি কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়। ভবিষ্যতে এই নজরদারি কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়, যাতে প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নীতিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করা যায়।

নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, কঠোর তদারকি এবং কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে কমিশন শূন্য শতাংশ বাস্তবায়নকে সফলভাবে কার্যকর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।