হত্যাচেষ্টা মামলায় আফজাল নাছেরের তিন দিনের রিমান্ড

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকালীন একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) মো. আফজাল নাছেরকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা এ মামলায় মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালতে এদিন আফজাল নাছেরকে হাজির করে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক কে এম আবদুল হক। একই সঙ্গে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদনও দাখিল করা হয়। উভয় আবেদনের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে অংশ নেন কৌঁসুলি শামসুদ্দোহা সুমন। অপরদিকে আসামির পক্ষে রিমান্ড আবেদন বাতিল ও জামিনের আবেদন করে শুনানি করেন আইনজীবী জাহিদুল হাসান। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের বিষয়ে আদেশ প্রদান করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল বের করেন। কোর্ট হাউস স্ট্রিট এলাকায় ওই মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাস গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং পরে চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হন।

এ ঘটনায় অনিক কুমার দাস ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর কোতোয়ালি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে আফজাল নাছেরের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

এর আগে ৩০ মার্চ রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর একাধিক মামলায় তাকে বিভিন্ন দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ কোতোয়ালি থানার এ হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে নতুন করে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হলো।

মামলার গুরুত্বপূর্ণ সময়রেখা

তারিখঘটনা
১৬ জুলাই ২০২৪জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিছিল চলাকালে কোর্ট হাউস স্ট্রিটে হামলা, অনিক কুমার দাস আহত
২১ নভেম্বর ২০২৪অনিক কুমার দাস কোতোয়ালি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন
৩০ মার্চ ২০২৫রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস থেকে আফজাল নাছের গ্রেপ্তার
৫ মে ২০২৬আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন

এই মামলায় তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আদালতের আদেশ অনুযায়ী আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে রাখা হয়েছে।