একাধিক সফল চলচ্চিত্রের সংগীতায়োজনের মাধ্যমে অল্প বয়সেই দেশের সংগীতাঙ্গনে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান। চলচ্চিত্রের গান ও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মূলধারার শ্রোতাদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠলেও সম্প্রতি তিনি চলচ্চিত্রনির্ভর প্লেব্যাক গান থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে এবং একই সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রীতম হাসান জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রনির্ভর সংগীতের মধ্যে কাজ করতে করতে তিনি এক ধরনের সীমাবদ্ধতা অনুভব করছিলেন। তার মতে, একজন শিল্পীর জন্য নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়া সৃষ্টিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তিনি মনে করেন, স্বাধীন সংগীতচর্চাই তার প্রকৃত শিল্পীসত্তার সবচেয়ে কাছের জায়গা। তাই তিনি আবারও সেই স্বাধীন ধারার সংগীতে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে চান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালে প্রকাশিত তার ইপি ধাঁচের কাজ শ্রোতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছিল। সেই ধরনের পরীক্ষামূলক ও স্বাধীন কাজের প্রতি শ্রোতাদের আগ্রহ তাকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। এই প্রতিক্রিয়া তাকে চলচ্চিত্রের বাইরে গিয়ে নিজস্ব সঙ্গীতভাষা আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।
নির্দিষ্ট ঘরানায় কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, একঘেয়েমি শিল্পীর সৃজনশীল বিকাশকে ধীর করে দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি ক্যারিয়ারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তিনি ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরণের সংগীতধারা নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন, যাতে সৃজনশীলতার বিস্তার ঘটে।
তার সাম্প্রতিক কাজ ‘দ্বিতীয় নায়ক’ প্রকল্পটি পরিচালনা করেছেন নুহাশ হুমায়ূন। এই প্রকল্পের ধারণা প্রসঙ্গে প্রীতম জানান, এটি মূলত প্রান্তিকতা ও উপেক্ষিত হওয়ার অনুভূতি থেকে অনুপ্রাণিত। নুহাশ হুমায়ূনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণে আড্ডার সময়েই এই সৃজনশীল ধারণার জন্ম হয়, যা পরে একটি পূর্ণাঙ্গ সংগীতচিত্রে রূপ নেয়।
ভিডিওটির শিল্পী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। মালাইকা চরিত্রের জন্য নতুন মুখ হিসেবে তাকে যথাযথ মনে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি মীর রাব্বির অভিনয় ভিডিওটিকে আরও শক্তিশালী ও প্রাঞ্জল করেছে বলে তার মত। তিনি মনে করেন, সৃজনশীল কাজে স্বতঃস্ফূর্ততা এবং বৈচিত্র্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও তিনি কথা বলেন। তার মতে, নতুন প্রজন্মের অনেক প্রতিভাবান শিল্পী ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন, যাদের যথাযথ সুযোগ পাওয়া প্রয়োজন। তিনি বিশেষভাবে জি এম আশরাফ, জাহিদ নিরব এবং অঙ্কন কুমারের মতো শিল্পীদের কাজের প্রশংসা করেন, যারা দেশের আধুনিক সংগীতকে নতুন মাত্রা দিচ্ছেন।
নিচে আলোচিত প্রধান বিষয় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রধান শিল্পী | প্রীতম হাসান |
| সহযোদ্ধা ও নির্মাতা | নুহাশ হুমায়ূন |
| সাম্প্রতিক প্রকল্প | দ্বিতীয় নায়ক |
| প্রধান চরিত্র | মালাইকা |
| সহশিল্পী | মীর রাব্বি |
| সমকালীন সংগীতশিল্পী | জি এম আশরাফ, জাহিদ নিরব, অঙ্কন কুমার |
সব মিলিয়ে প্রীতম হাসানের এই সিদ্ধান্ত তার ক্যারিয়ারে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে তিনি আরও স্বাধীন, পরীক্ষামূলক এবং বৈচিত্র্যময় সংগীতচর্চায় মনোনিবেশ করতে চান, যা তাকে নতুনভাবে শ্রোতাদের সামনে উপস্থাপন করবে।
