শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ময়মনসিংহে স্কুলছাত্র গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে নবম শ্রেণির এক কিশোরকে (১৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে অভিযুক্ত কিশোরকে তার নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আজ রোববার তাকে আদালতের নির্দেশে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বিবরণ

মামলার এজাহার এবং স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল দুপুরে অভিযুক্ত কিশোর ওই শিশুটিকে টেলিভিশন দেখার কথা বলে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হলে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ২৭ এপ্রিল শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে দুই দিন চিকিৎসা গ্রহণের পর গত ২৯ এপ্রিল শিশুটিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় এবং সে বাড়ি ফিরে আসে।

সামাজিক চাপ ও আইনগত পদক্ষেপ

হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারকে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে বিষয়টি সালিস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার আশ্বাস দেওয়া হয়। এমনকি তাদের থানায় গিয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতেও নিষেধ করা হয়েছিল। তবে ঘটনার বিবরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। জনরোষ ও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পাগলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের অভিযান ও গ্রেপ্তার

মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত কিশোর আত্মগোপনে চলে যায়। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অভিযুক্ত কিশোর প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামে পালিয়ে গিয়েছিল। তবে পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং গোয়েন্দা নজরদারির কারণে সে পুনরায় এলাকায় ফিরে আসতে বাধ্য হয়। গতকাল শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

ঘটনার সময়রেখা

নিচে ঘটনার শুরু থেকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ পর্যন্ত প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করা হলো:

তারিখঘটনার বিবরণ
২৫ এপ্রিলদুপুরে টেলিভিশন দেখানোর প্রলোভনে শিশুকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ।
২৭ এপ্রিলশিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি।
২৯ এপ্রিলদুই দিন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে শিশুটির ছাড়পত্র গ্রহণ।
৩০ এপ্রিল – ১ মেস্থানীয় পর্যায়ে সালিস-মীমাংসার চেষ্টা এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় যেতে বাধা প্রদান।
০২ মে (বৃহস্পতিবার)রাতে পাগলা থানায় শিশুটির বাবার বাদী হয়ে মামলা দায়ের।
০৪ মে (শনিবার)আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত কিশোরকে এলাকা থেকে গ্রেপ্তার।
০৫ মে (রোববার)অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ এবং পরবর্তীতে কিশোর সংশোধনাগারে প্রেরণ।

আইনগত প্রক্রিয়া ও বর্তমান অবস্থা

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত কিশোর স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বয়সের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে প্রাপ্তবয়স্কদের কারাগারের পরিবর্তে আজ রোববার আদালতের মাধ্যমে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, এ ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনায় স্থানীয় সালিসের নামে বিচারের নামে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বা তথ্য গোপন করার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। বর্তমানে শিশুটি তার নিজ বাড়িতে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যবেক্ষণে রয়েছে। স্থানীয় জনমনে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।