সরকারি আদেশে ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বাধ্যতামূলক অবসর

বাংলাদেশ পুলিশের বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৭ জন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

রোববার (৩ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে এসব কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়, তাঁরা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সব ধরনের সুবিধা প্রাপ্য হবেন।

এর আগে গত ২২ এপ্রিল পুলিশের ১১ জন ডিআইজি এবং ২ জন অতিরিক্ত ডিআইজিকে একইভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। ওই কর্মকর্তারা বিভিন্ন ইউনিট ও দপ্তরে দায়িত্ব পালনরত ছিলেন বা সংযুক্ত অবস্থায় কর্মরত ছিলেন।

সর্বশেষ আদেশে অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের তালিকায় পুলিশ, বিশেষায়িত ইউনিট, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের তালিকা

ক্রমনামপদবি/পদায়ন
মফিজ উদ্দিন আহম্মেদউপমহাপরিদর্শক, অ্যান্টিটেররিজম ইউনিট
ইমতিয়াজ আহমেদউপমহাপরিদর্শক, হাইওয়ে পুলিশ
মোঃ হাবিবুর রহমানউপমহাপরিদর্শক, অপরাধ তদন্ত বিভাগ
সালেহ মোহাম্মদ তানভীরউপমহাপরিদর্শক, পুলিশ অধিদপ্তর (টিআর)
মোঃ হারুন অর রশিদপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর
এস এম আক্তারুজ্জামানউপমহাপরিদর্শক, ঢাকা পুলিশ স্টাফ কলেজ
মোঃ হায়দার আলী খানকমান্ড্যান্ট, নোয়াখালী পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
মোঃ মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়াকমান্ড্যান্ট, খুলনা পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
মোঃ রুহুল আমিনউপমহাপরিদর্শক, ট্যুরিস্ট পুলিশ
১০মোঃ রফিকুল হাসান গনিউপমহাপরিদর্শক, হাইওয়ে পুলিশ
১১মোঃ মিজানুর রহমানউপমহাপরিদর্শক, নৌ পুলিশ
১২মোঃ মজিদ আলীকমিশনার, রংপুর মহানগর পুলিশ
১৩কাজী জিয়া উদ্দিনউপমহাপরিদর্শক, পুলিশ অধিদপ্তর
১৪মোঃ গোলাম রউফ খানউপমহাপরিদর্শক, রেলওয়ে পুলিশ
১৫শেখ মোহাম্মদ রেজাউল হায়দারকমান্ড্যান্ট, রংপুর পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
১৬রখফার সুলতানা খানমউপমহাপরিদর্শক, হাইওয়ে পুলিশ
১৭ফারহাত আহমেদপুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি), রেলওয়ে পুলিশ

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, একই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারার আওতায় জনস্বার্থে এ ধরনের অবসর প্রদান করা হয়ে থাকে। প্রজ্ঞাপনে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রাপ্য সুবিধা নিয়ম অনুযায়ী প্রদানের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক ইউনিট ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় প্রশাসনিক পর্যায়ে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।