রাঙ্গামাটিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত জেলা কমিটি বাতিলের দাবিতে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের একাংশ বিক্ষোভ করেছে। তাদের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে বিতর্কিতভাবে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের জন্য কাজ করা ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।
গত শনিবার রাতে ২৩ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক জেলা কমিটি ঘোষণা করা হলে সংগঠনের ভেতরে তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। কমিটি ঘোষণার পরপরই পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তাদের অভিযোগ, কমিটিতে এমন কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে যারা বিবাহিত, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় নন এবং জেলার বাইরেও বসবাস করেন।
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক সৃষ্টি হয় রাজস্থলী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ককে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত তৃণমূল পর্যায়ের বাস্তবতাকে উপেক্ষা করেছে এবং দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করা নেতাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।
এর প্রতিবাদে রবিবার সকালে রাঙ্গামাটি শহরের পৌরসভা চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কাঠালতলী এলাকায় গিয়ে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। এতে কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, অর্থের বিনিময়ে এবং ব্যক্তিগত সুবিধার ভিত্তিতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, “টাকা লাগলে টাকা নে, নতুন করে কমিটি দে”—এই ধরনের স্লোগান দিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে কমিটি বাতিলের আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ চলাকালীন ঘোষিত কমিটির কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। তারা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করেন এবং পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
নিচে নবগঠিত কমিটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ ও সংশ্লিষ্ট বিতর্ক সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| পদবী | অভিযোগ ও পরিস্থিতি |
|---|---|
| সাধারণ সম্পাদক | রাজস্থলী থেকে আনা, স্থানীয় সংযোগ নিয়ে প্রশ্ন |
| সহসভাপতি | কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ |
| সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক | সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ |
| যুগ্ম সম্পাদক | অর্থ ও অনৈতিক সুবিধার অভিযোগ তোলেন |
| প্রচার সম্পাদক | বিক্ষোভে উপস্থিত থেকে সমর্থন জানান |
সহসভাপতি নূর তালুকদার মুন্না বলেন, যাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে, তিনি রাঙ্গামাটি শহরের অধিকাংশ নেতাকর্মীর কাছেই অপরিচিত। এমন সিদ্ধান্ত সংগঠনের ঐক্য ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
অন্যদিকে যুগ্ম সম্পাদক পারভেজ হোসেন সুমন অভিযোগ করেন, অর্থ ও ব্যক্তিগত সুবিধা আদান-প্রদানের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা সংগঠনের নীতির পরিপন্থী। তিনি অবিলম্বে কমিটি বাতিল করে সক্রিয় ও ত্যাগী কর্মীদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান।
তবে নবগঠিত কমিটির সভাপতি অলি আহাদ বলেন, ছাত্রদল একটি বড় রাজনৈতিক সংগঠন হওয়ায় সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। কিছু নেতাকর্মীর মধ্যে ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক হলেও সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রেখে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৮ সালের মে মাসে রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদলের সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়েছিল, যা দীর্ঘ সময় ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
