টঙ্গীতে ট্রেন ধাক্কায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা

গাজীপুরের টঙ্গীতে রেলক্রসিংয়ের সতর্ক সংকেত ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পারাপারের চেষ্টা করার সময় আন্তঃনগর ট্রেনের ধাক্কায় একটি মোটরসাইকেল গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত মোটরসাইকেল চালক অপু মিয়া (৩৯) প্রাণে বেঁচে গেছেন। স্থানীয়দের মতে, মুহূর্তের দ্রুত সিদ্ধান্তে তিনি মোটরসাইকেল থেকে লাফ দিয়ে সরে যেতে সক্ষম হন, যার ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা–টঙ্গী রেলপথের টঙ্গী নতুন বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই সময় ঢাকাগামী একটি আন্তঃনগর যাত্রীবাহী ট্রেন রেলক্রসিং অতিক্রম করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মূল রেলগেটটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিল এবং সেখানে সতর্ক সংকেতও জ্বলছিল। কিন্তু তা উপেক্ষা করে অপু মিয়া মোটরসাইকেল নিয়ে পাশের একটি সংকীর্ণ পকেট গেট দিয়ে দ্রুত রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ট্রেনের ধাক্কা লাগে মোটরসাইকেলে।

দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলটি রেললাইনের ওপর থেকে ছিটকে দূরে পড়ে যায় এবং ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপু মিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান, তবে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার সাধারণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

অপু মিয়া গাজীপুরের পূবাইল এলাকার পদহারবাইদ গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে। তিনি টঙ্গী সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দলিল লেখক হিসেবে কর্মরত আছেন।

দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়বিবরণ
দুর্ঘটনার স্থানটঙ্গী নতুন বাজার রেলক্রসিং
সময়২৯ এপ্রিল, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা
ট্রেনঢাকাগামী আন্তঃনগর যাত্রীবাহী ট্রেন
ভুক্তভোগীঅপু মিয়া (৩৯)
পেশাদলিল লেখক
আঘাতহালকা শারীরিক আঘাত
বর্তমান অবস্থাচিকিৎসাধীন, আশঙ্কামুক্ত
সম্পদের ক্ষতিমোটরসাইকেল গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত

ঘটনার পর টঙ্গী রেল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর আলম হোসেন জানান, রেলগেট বন্ধ থাকা অবস্থায় সিগন্যাল সচল ছিল এবং ট্রেন অতিক্রম করছিল। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পকেট গেট দিয়ে পারাপারের চেষ্টার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে রেলক্রসিং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ব্যস্ত এই রেলপথে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে, যেখানে নিয়ম ভঙ্গ করে পারাপারের প্রবণতা প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, রেলক্রসিং এলাকায় আরও কঠোর নজরদারি, নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং বিকল্প নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা বলছেন, শুধু সতর্ক সংকেত বা গেট বন্ধ রাখাই যথেষ্ট নয়; কার্যকর শৃঙ্খলা ও জনসচেতনতা না বাড়ালে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।