কলাপাড়ায় দুই দিনে বজ্রপাতে ২৯ গরুর মৃত্যু ঘটেছে

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় টানা দুই দিনের বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের কারণে অন্তত উনত্রিশটি গবাদিপশু, বিশেষ করে গরু, মারা গেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় মোট তেইশজন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ধারণা করছেন। কৃষকদের প্রাথমিক হিসাবে এ ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ প্রায় ষাট লাখ টাকা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মারুফ বিল্লাহ জানান, গত মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিনে বজ্রপাতে উনত্রিশটি গরুর মৃত্যু নিশ্চিতভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় এখন পর্যন্ত তেইশজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তবে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলমান থাকায় মৃত গরুর সংখ্যা ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

স্থানীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ধুলাসার ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, বালিয়াতলী ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের ইব্রাহিম হাওলাদার, একই ইউনিয়নের হাবিবুল্লাহ, রিফিউজিপাড়ার শাহিদা বেগম, মধুখালী ইউনিয়নের মধুখালী গ্রামের আনেচ খান ও এনায়েত তালুকদার, এবং মহিপুর ইউনিয়নের কমরপুর গ্রামের নূর হোসেনসহ আরও অনেকে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে তীব্র বজ্রপাত শুরু হলে মাঠে ও খোলা জায়গায় বেঁধে রাখা গরুগুলো প্রাণ হারায়। এতে শুধু দুধেল গাভি নয়, ছোট বাছুর এবং কোরবানির বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা গরুও মারা গেছে। কয়েকজন কৃষক জানান, কয়েক দিনের মধ্যেই এসব গরু বিক্রির পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও বিনিয়োগ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে।

মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের আজিমদ্দিন গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন খান জানান, মাঠে বাঁধা অবস্থায় থাকা তাঁর একটি দুধেল গরু বজ্রপাতে মারা যায়, যাতে তাঁর প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রী এবং ঢেউটিন প্রদান করা হতে পারে।

নিচে ক্ষতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
বজ্রপাতে মৃত গরুর সংখ্যা২৯টি
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা২৩ জন
ক্ষতির আনুমানিক পরিমাণপ্রায় ৬০ লাখ টাকা
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকলাপাড়া উপজেলা

স্থানীয় প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর যৌথভাবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তালিকা তৈরির কাজ অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে।