ইরান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক পরিকল্পনা

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে নতুন একটি পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপার বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফ করবেন বলে জানা গেছে। একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই ব্রিফিংয়ে ইরানের বিরুদ্ধে ‘সংক্ষিপ্ত ও শক্তিশালী’ হামলার একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে, যেখানে দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে বলা হয়, পরিকল্পনাটি মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে চাপ সৃষ্টি করার কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামরিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে আলোচনায় নমনীয় করার লক্ষ্য এতে প্রতিফলিত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আলোচনায় আরও কিছু কৌশলগত পদক্ষেপও উঠে আসতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালির একটি অংশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা। এই ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের কাছে সংরক্ষিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করার লক্ষ্যে বিশেষ বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনাও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আলোচনায় থাকতে পারে। এসব পদক্ষেপ সামগ্রিকভাবে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বিবেচনা করা হচ্ছে।

একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বোমা হামলার চেয়ে নৌ অবরোধকে তিনি তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর কৌশল হিসেবে দেখছেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নৌ অবরোধকে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি প্রধান উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নিচে আলোচিত পরিকল্পনার মূল দিকগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—

পরিকল্পনার ক্ষেত্রসম্ভাব্য পদক্ষেপ
সামরিক হামলাইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে সংক্ষিপ্ত ও শক্তিশালী হামলা
হরমুজ প্রণালিএকটি অংশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা
স্থলবাহিনী মোতায়েনপ্রণালি নিয়ন্ত্রণ ও অভিযান বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যবহার
বিশেষ অভিযানসমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন
নৌ অবরোধইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির বিকল্প কৌশল হিসেবে বিবেচনা

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা এবং কৌশলগত প্রভাব নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। এই ব্রিফিংয়ের পরই পরবর্তী কৌশলগত দিকনির্দেশনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে।