ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানে ইরান শান্তি আলোচনা অচলাবস্থা মধ্যপ্রাচ্য সংকট

ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির যে সর্বশেষ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি একজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় দুই মাস ধরে চলমান সংঘাত থামানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ইরানের প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, আপাতত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রেখে আগে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরে নৌ চলাচল নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, পারমাণবিক ইস্যু সমাধান ছাড়া কোনো ধরনের চুক্তি সম্ভব নয়। এই মৌলিক মতপার্থক্যের কারণেই গত সোমবার ট্রাম্প তাঁর উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের প্রস্তাব নাকচ করেন বলে জানানো হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা গণমাধ্যমে কোনো ধরনের দর-কষাকষি করবে না এবং নিজেদের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করেছে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

কূটনৈতিক অগ্রগতির প্রচেষ্টা সম্প্রতি আরও বাধাগ্রস্ত হয় যখন ট্রাম্প তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তান সফর বাতিল করেন। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত দুই দিনে দুইবার পাকিস্তান সফর করেন এবং পরে রাশিয়ায় গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে তিনি সমর্থন লাভ করেন বলে জানা যায়।

সংঘাত ও অনিশ্চয়তার প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। এশীয় বাজারে তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে অন্তত ছয়টি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারকে ফিরে যেতে হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘সমুদ্রে জলদস্যুতা ও সশস্ত্র ডাকাতি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সাধারণ সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও সাম্প্রতিক সময়ে এই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র সাতটি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছে এবং কোনো জাহাজই তেল পরিবহন করেনি।

ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, তাদের প্রস্তাব ধাপে ধাপে আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি। প্রথম ধাপে যুদ্ধ বন্ধ ও পুনরায় আক্রমণ না করার নিশ্চয়তা, দ্বিতীয় ধাপে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং শেষ ধাপে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করার কথা বলা হয়েছে।

পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত চিত্র

বিষয়বিবরণ
ইরানের প্রস্তাবযুদ্ধবিরতি, পরে পারমাণবিক আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানআগে পারমাণবিক ইস্যু সমাধান
গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনাউইটকফ ও কুশনারের সফর বাতিল
ইরান–রাশিয়া বৈঠকপুতিনের সঙ্গে আরাগচির আলোচনা
জ্বালানি পরিস্থিতিহরমুজে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কম
বাজার প্রভাবআন্তর্জাতিক তেলের দাম বৃদ্ধি

বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের অবস্থান অনড় থাকায় শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।