বগুড়ায় পুরোনো প্রশ্নে দাখিল পরীক্ষা, তদন্ত কমিটি গঠন

বগুড়ার শেরপুরে দাখিল গণিত পরীক্ষায় পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের ঘটনায় প্রশাসন তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্রের হল সুপারসহ চারজন কক্ষ পরিদর্শককে পরীক্ষার সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন—উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল জোব্বার এবং শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. জাকির হোসেন। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—হল সুপার হায়দার আলী এবং কক্ষ পরিদর্শক হাসনা খাতুন, জোবায়দা খাতুন, কাওছার আহম্মেদ ও মামুনুর রশিদ।

ঘটনা সম্পর্কে জানা যায়, রোববার শেরপুর শহীদিয়া আলীয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের ১০১ ও ১০২ নম্বর কক্ষে মোট ২৯ জন শিক্ষার্থী দাখিল গণিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ফুলতলা দাখিল মাদ্রাসার ১০ জন, রাজারদীঘির ১৩ জন, চকসাদির ৩ জন এবং উলিপুর আমেরিয়া মাদ্রাসার ৩ জন শিক্ষার্থী ছিল। তারা সকলেই নতুন সিলেবাস অনুযায়ী নিয়মিত পরীক্ষার্থী।

পরীক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, পরীক্ষা শুরুর পর কক্ষ পরিদর্শকরা তাদের হাতে নতুন সিলেবাসের পরিবর্তে পুরোনো ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র তুলে দেন। বিষয়টি পরীক্ষার সময় শনাক্ত না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সেই প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা সম্পন্ন করে। পরে বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি বুঝতে পারলে তারা পরিবার ও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে অবহিত করে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

কেন্দ্র সচিব ও শেরপুর শহীদিয়া আলীয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটি। পরীক্ষার সময় বিষয়টি নজরে না আসলেও পরবর্তীতে জানা গেলে তিনি সংশ্লিষ্ট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, পরীক্ষার্থীদের ফলাফলে কোনো সমস্যা হবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং তাদের ফলাফল যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নিচে উপস্থাপন করা হলো—

মাদ্রাসার নামপরীক্ষার্থীর সংখ্যা
ফুলতলা দাখিল মাদ্রাসা১০ জন
রাজারদীঘি মাদ্রাসা১৩ জন
চকসাদি মাদ্রাসা৩ জন
উলিপুর আমেরিয়া মাদ্রাসা৩ জন
মোট২৯ জন

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।