চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার ভাড়া বাসায় ফেরার পথে কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৪) এক সংঘবদ্ধ ছিনতাইচক্রের নির্মম সহিংসতার শিকার হন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে পরিকল্পিত ও পেশাদার অপরাধচক্রের ভয়াবহ কার্যপদ্ধতির তথ্য।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পরে তিনি পদুয়ার বাজার এলাকায় নেমে একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশায় ওঠেন। সেই অটোরিকশাতেই আগে থেকেই অবস্থান করছিল সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা। চালকসহ যানটিতে মোট পাঁচজন ছিল, যারা যাত্রীবেশে পরিকল্পিতভাবে সেখানে অবস্থান করছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়ক ও সংযোগ সড়কে যাত্রীবেশে ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ করে আসছিল। তারা যাত্রীদের আস্থা অর্জন করে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে লুটপাট করত। বুলেট বৈরাগীও একই কৌশলের শিকার হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার সময় সংঘবদ্ধ চক্রটি তার কাছ থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি বাধা দিলে অটোরিকশার ভেতরে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে চলন্ত যান থেকে মহাসড়কে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পরে সকালে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার একটি হোটেলের পাশে স্থানীয়রা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার সময়রেখা
| সময়/পর্যায় | ঘটনা |
|---|---|
| রাতের সময় | চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে যাত্রা |
| পদুয়ার বাজার এলাকা | বাস থেকে নেমে অটোরিকশায় ওঠা |
| চলন্ত অবস্থায় | ছিনতাইকারীদের দ্বারা আক্রমণ শুরু |
| কিছুক্ষণ পর | ধস্তাধস্তি ও লুটপাট সংঘটিত |
| পরবর্তী মুহূর্ত | চলন্ত যান থেকে ফেলে দেওয়া |
| সকাল আনুমানিক সাড়ে সাতটা | মহাসড়কের পাশে মরদেহ উদ্ধার |
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় সরাসরি পাঁচজন জড়িত ছিল। তাদের মধ্যে চারজন সক্রিয়ভাবে ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় এবং অপর একজনের কাছ থেকে নিহতের ব্যাগ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা এর আগেও একাধিক ছিনতাই ও ডাকাতি মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুলেট বৈরাগী কর্মস্থল কুমিল্লায় স্থায়ীভাবে কাজ করতেন এবং সেখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন। কিছুদিন আগে তার ঘরে একটি সন্তানের জন্ম হয়, যার প্রথম জন্মদিন ঘিরে পরিবারের মধ্যে আনন্দের প্রস্তুতি চলছিল। এই নির্মম ঘটনায় পুরো পরিবার এখন গভীর শোকে নিমজ্জিত।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কে যাত্রী নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং অপরাধচক্র দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পুরো চক্রের নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আরও গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে।
