জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

ঢাকার পুরোনো বাস নিয়ন্ত্রণে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার চিত্র

ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকায় চলাচলকারী একটি পুরোনো বাসের মাধ্যমে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হয়। বাসটি ছিল বহু পুরোনো, রং উঠে যাওয়া এবং মরিচা ধরা কাঠামোর। ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ ওই বাসে ওঠার সময় দেখা যায়, ৪১টি আসনের স্থলে ৪৬টি আসন বসানো হয়েছে এবং সব আসন পূর্ণ থাকায় যাত্রীদের দাঁড়িয়ে যেতে হয়। আসনগুলো তেলচিটচিটে অবস্থায় ছিল।

বাসটির সহকারী জানান, প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার টাকা জমা দিয়ে বাস ভাড়া নেওয়া হয়। জ্বালানি ও অন্যান্য খরচ বাদে অবশিষ্ট অর্থ চালক, সহকারী ও ভাড়া আদায়কারীর মধ্যে ভাগ করা হয়। এতে বোঝা যায়, পুরোনো বাস হলেও মালিকপক্ষ নিয়মিত আয় পেয়ে থাকে।

বাসটির নিবন্ধন অনুযায়ী এটি ২০০৬ সালে নির্মিত এবং বর্তমানে বয়স প্রায় ২০ বছর। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই বাসের রুট পারমিট ও ফিটনেস সনদ মেয়াদোত্তীর্ণ। তবুও এটি রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে।

ঢাকার বাস পরিস্থিতির পরিসংখ্যান

বিষয়সংখ্যা বা তথ্য
নিবন্ধিত বাস ও মিনিবাসপ্রায় ৫৪,০০০
মেয়াদোত্তীর্ণ বাসপ্রায় ১৬,১৯৮
মোট মেয়াদোত্তীর্ণ হারপ্রায় ৩০ শতাংশ
ফিটনেস সনদ নেই এমন যানবাহনপ্রায় ৪১,১৬৮ (সারা দেশে)
বাস পরিচালনাকারী কোম্পানিপ্রায় ৩০০
মালিকের সংখ্যাঅন্তত ৪,০০০

ঢাকায় বাস পরিচালনা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে হয়ে থাকে। মালিকেরা দৈনিক ভিত্তিতে নির্দিষ্ট অর্থ গ্রহণ করেন এবং বাকি আয় শ্রমিকদের মধ্যে ভাগ হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রিত কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালিত হয়, যাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বাধা এড়ানো যায়।

দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস থেকে বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ চাঁদা হিসেবে আদায় হয়, যা বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ভাগ হয়। একই গবেষণায় দেখা যায়, বড় পরিবহন কোম্পানির অধিকাংশই রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় একাধিকবার পুরোনো বাস তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। বিভিন্ন সময়ে সরকার ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও বাস্তবে তা প্রয়োগ হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বাস ব্যবস্থায় শৃঙ্খলার অভাব, পুরোনো যানবাহন এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ একসঙ্গে পরিবহন খাতকে জটিল করে তুলেছে। এর ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা, পরিবেশ দূষণ এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিবহন খাতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রভাব পরিবর্তিত হলেও পুরোনো বাস চলাচলের সমস্যা সমাধান হয়নি। নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর অভিযান ও উদ্যোগ থাকলেও বাস্তব প্রয়োগ সীমিত রয়ে গেছে।

Tags :

Shourav Gurukul

Recent News