৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান

জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ হোক্কাইডোতে ৬ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার ভোর ৫টা ২৩ মিনিটে স্থানীয় সময় এই ভূকম্পন ঘটে। একই সময়ে বাংলাদেশে তখন রোববার রাত ৩টা ২৩ মিনিট। ভূমিকম্পের তথ্য নিশ্চিত করেছে জাপানের আবহাওয়া দপ্তর এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা।

জাপানের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল হোক্কাইডো দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলের সাপ্পোরো শহর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পূর্ব দিকে। ভূগর্ভের প্রায় ৮৩ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়। এই গভীরতা তুলনামূলকভাবে মাঝারি স্তরের বলে বিবেচিত হয়, যার ফলে বিস্তৃত এলাকায় কম্পন অনুভূত হতে পারে।

ভূমিকম্পটি সংঘটিত হওয়ার পর জাপানের আবহাওয়া দপ্তর জানায়, এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি, আহত হওয়ার ঘটনা কিংবা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে সুনামির কোনো ঝুঁকিও নেই বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ভূমিকম্পের কারণে পাহাড়ি এলাকায় বড় পাথর নিচে গড়িয়ে পড়া এবং ভূমিধসের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

একই অঞ্চলে এই ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা আগে আরও একটি কম্পন অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল ৫। ফলে একই দিনে দুই দফা ভূমিকম্পে হোক্কাইডো অঞ্চলে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়।

এর আগের সপ্তাহে হোক্কাইডোর ইওয়াতে অঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। সেই কম্পনের প্রভাব রাজধানী টোকিওসহ শত শত কিলোমিটার দূরেও অনুভূত হয়েছিল। ওই ঘটনায় ছয়জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

জাপান ভৌগোলিকভাবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় বলয়ের ওপর অবস্থিত। এই অঞ্চলটি পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। টেকটোনিক পাতের সক্রিয় সীমানায় অবস্থানের কারণে দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ঘটে থাকে।

জাপানের প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের বসবাস রয়েছে এমন একটি দেশে বছরে গড়ে প্রায় এক হাজার পাঁচশো ভূমিকম্প অনুভূত হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে যত ভূমিকম্প ঘটে তার প্রায় অষ্টাদশ ভাগ জাপানেই সংঘটিত হয়। এই কারণে দেশটিতে ভূমিকম্প মোকাবিলায় বিশেষ অবকাঠামো, নির্মাণনীতি এবং সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

নিচে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
ভূমিকম্পের মাত্রা৬ দশমিক ২
সময়সোমবার ভোর ৫টা ২৩ মিনিট (স্থানীয় সময়)
অবস্থানহোক্কাইডো, সাপ্পোরো থেকে ২০০ কিলোমিটার পূর্বে
গভীরতা৮৩ কিলোমিটার
ক্ষয়ক্ষতিএখন পর্যন্ত কোনো তথ্য নেই
সুনামির ঝুঁকিনেই
পূর্ববর্তী কম্পনএকই দিনে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প
আগের বড় ভূমিকম্প৭ দশমিক ৭ মাত্রা, ইওয়াতে অঞ্চল

আবহাওয়া দপ্তর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে এবং ভবিষ্যতে কোনো নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে বলে জানিয়েছে।