মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বে বিভাজন ও রাজনৈতিক সংকট রয়েছে—এমন দাবি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সুসংহত এবং রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ও জনগণের মধ্যে কোনো ধরনের বিভাজন নেই।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের (আল জাজিরা সংবাদমাধ্যম) বরাতে জানা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার কিছু ঘনিষ্ঠ সহযোগী দাবি করেন যে ইরানের শাসনব্যবস্থার ভেতরে কট্টরপন্থী ও মধ্যপন্থীদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ চলছে এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তবে এই বক্তব্যকে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বাস্তবতা বিবর্জিত অপপ্রচার হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিভাজন নেই। তাদের মতে, রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থ ও সংকটের প্রশ্নে সব পক্ষই একক অবস্থানে ঐক্যবদ্ধ থাকে। যৌথ বক্তব্যে তারা বলেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থা অটুট এবং বিদেশি চাপ বা হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় জাতি একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ রেজা আরেফও একই অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ইরান বিভেদের দেশ নয় বরং ঐক্যের প্রতীক। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার প্রশ্নে সবাই একই পতাকার নিচে একত্রিত হয়।
গত কয়েক মাসে কিছু আন্তর্জাতিক সূত্র ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও গুজব ছড়িয়েছে বলে দাবি করা হলেও তেহরান প্রশাসন সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া একটি হামলা ও তার পরবর্তী পরিস্থিতি ঘিরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হলেও সরকার তা অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছে।
ইরানি নেতৃত্বের অবস্থান আরও স্পষ্টভাবে নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | ইরানের সরকারি অবস্থান |
|---|---|
| নেতৃত্বে বিভাজন | সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হয়েছে |
| জনগণ ও সরকারের সম্পর্ক | দৃঢ় ঐক্য ও আস্থা বিদ্যমান |
| বিদেশি অভিযোগ | রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন |
| জাতীয় নিরাপত্তা | সর্বোচ্চ ঐক্য ও প্রতিরোধ বজায় রয়েছে |
ইরানি কর্মকর্তারা আরও অভিযোগ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক চাপ আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়াচ্ছে এবং কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাদের মতে, এসব চাপ সত্ত্বেও দেশটি অভ্যন্তরীণভাবে আরও সংগঠিত হয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অটল রয়েছে।
সব মিলিয়ে তেহরানের বার্তা স্পষ্ট—ইরানের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে কোনো বিভাজনের অস্তিত্ব নেই, এবং এ ধরনের দাবি কেবল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধির কৌশলমাত্র।
