নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় ব্যক্তিগতভাবে পাঠদান করাতে রাজি না হওয়াকে কেন্দ্র করে এক সহকারী শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং আরও একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্দেহভাজন পলাতক রয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষক সমাজ ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চৌঘরিয়া আবদুল মান্নান ভূঁইয়া আদর্শ বিদ্যাপীঠের প্রধান ফটকের সামনে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক মনজিল মোল্লাকে (৩২) তিনজন কিশোর ও তরুণ ডেকে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে এক শিক্ষার্থীকে পাঠদানের অনুরোধ করেন। সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি এতে রাজি না হলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওই তিনজন ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকের ওপর কিল-ঘুষি চালায়। ধারাবাহিক আঘাতে শিক্ষক মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অচেতন হয়ে যান। ঘটনার পর হামলাকারীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় কর্মচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত শিক্ষককে উদ্ধার করেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। পরে তাঁকে বিদ্যালয়ের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় বিদ্যালয় এলাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিবপুর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের পূবেরগাঁও গ্রামের রাশিদুল ইসলাম (২৬) এবং ইমন মিয়া (২০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি এবং সে পলাতক রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তথ্য
| নাম | বয়স | ঠিকানা | অবস্থা |
|---|---|---|---|
| রাশিদুল ইসলাম | ২৬ | পূবেরগাঁও, চক্রধা ইউনিয়ন | গ্রেপ্তার |
| ইমন মিয়া | ২০ | পূবেরগাঁও, চক্রধা ইউনিয়ন | গ্রেপ্তার |
| অজ্ঞাত কিশোর | অপ্রাপ্তবয়স্ক | অজ্ঞাত | পলাতক |
ঘটনার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং এক হামলাকারীকে বাড়ি থেকে ধরে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় উত্তেজিত কিছু শিক্ষার্থী পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা দোষীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, প্রশাসনের আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা কমে আসে। তিনি বলেন, শিক্ষকের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া জরুরি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ব্যক্তিগত পাঠদান সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।
শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পলাতক কিশোরকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষক সমাজ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
