২০১১ বিশ্বকাপে রোহিত বাদে শ্রীকান্তের অনুশোচনা

ভারতের দুইবারের টি২০ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রোহিত শর্মার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের একটি বড় অনুচ্ছেদ হলো ২০১১ সালের একদিনের আন্তর্জাতিক বিশ্বকাপ দল থেকে তাঁর বাদ পড়া। ২০০৭ সালে টি২০ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য থাকা সত্ত্বেও ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ২০১১ বিশ্বকাপের দলে জায়গা হয়নি তাঁর। দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনার কথা জানিয়েছেন তখনকার প্রধান নির্বাচক কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত।

তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, রোহিত শর্মাকে দলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত সামর্থ্য বা ফর্মের কারণে হয়নি, বরং দলীয় ভারসাম্য রক্ষার কৌশলগত সিদ্ধান্তের অংশ ছিল। শ্রীকান্ত জানান, সে সময় দলে ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই অবদান রাখতে সক্ষম খেলোয়াড়, অর্থাৎ ‘হাফ অলরাউন্ডার’ ধরনের ক্রিকেটারদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওই সময় নির্বাচকদের চিন্তাভাবনা ছিল ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী ভারতের দলকে অনুসরণ করা, যেখানে একাধিক খেলোয়াড় ব্যাটিং ও বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই অবদান রেখেছিলেন।

শ্রীকান্ত বলেন, তিনি সম্প্রতি রোহিত শর্মার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনও অনুশোচনা অনুভব করেন। তাঁর ভাষায়, রোহিতের সেই সময়ের যোগ্যতা নিয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না, কিন্তু দলীয় সমন্বয়ের কারণে তাকে বাইরে রাখা হয়েছিল।

২০১১ বিশ্বকাপে ভারতের দলে থাকা কয়েকজন ‘হাফ অলরাউন্ডার’ উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স করেছিলেন। যুবরাজ সিং টুর্নামেন্টে ৩৬২ রান করার পাশাপাশি ১৫টি উইকেট নিয়ে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। একই সঙ্গে সুরেশ রায়না, ইউসুফ পাঠান এবং বীরেন্দ্র শেবাগের মতো ক্রিকেটাররা ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বোলিংয়েও অবদান রাখেন।

নিচের সারণিতে সে সময়ের নির্বাচনী দর্শন এবং তার প্রভাব সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

বিষয়বিবরণ
নির্বাচনী নীতিব্যাটিং ও বোলিংয়ে অবদান রাখতে সক্ষম খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার
দল গঠনের অনুপ্রেরণা১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের কৌশল
উল্লেখযোগ্য পারফরমারযুবরাজ সিং (রান ও উইকেট), সুরেশ রায়না, ইউসুফ পাঠান
বাদ পড়া খেলোয়াড়রোহিত শর্মা
পরবর্তী মূল্যায়নসিদ্ধান্ত নিয়ে প্রধান নির্বাচকের অনুশোচনা

রোহিত শর্মা পরবর্তী সময়ে ভারতীয় ক্রিকেটে সাদা বলের ফরম্যাটে অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনটি দ্বিশতকের মালিক, যা এখন পর্যন্ত অন্য কোনো ব্যাটসম্যান অর্জন করতে পারেননি।

শচীন টেন্ডুলকারের অবসরের পর ওপেনিংয়ে স্থায়ী হয়ে তিনি ভারতের ব্যাটিং লাইনআপের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন। তাঁর নেতৃত্বে ভারত ২০২৩ সালের একদিনের আন্তর্জাতিক বিশ্বকাপে ফাইনালে পৌঁছায়, যদিও শিরোপা জেতা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে টেস্ট ও টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও রোহিত শর্মা একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সক্রিয় আছেন। আগামী বিশ্বকাপে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে ক্রিকেট মহলে প্রত্যাশা রয়েছে, যেখানে একমাত্র অধরা শিরোপা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই তিনি মাঠে নামতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।