ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে রুমেইসার জয়

যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের তুর্কি শিক্ষার্থী রুমেইসা ওজতুর্ক ফিলিস্তিন-সংক্রান্ত একটি মতামতধর্মী নিবন্ধকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতা মোকাবিলা করে শেষ পর্যন্ত নিজের পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন এবং নিজ দেশ তুরস্কে ফিরে গেছেন।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ঘটনাটির সূচনা ঘটে। ওই সময় রুমেইসা ও আরও তিনজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রপত্রিকায় একটি মতামত নিবন্ধ প্রকাশ করেন। সেখানে তারা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রমকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

এর প্রায় এক বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রশাসন ওই নিবন্ধের ভিত্তিতে রুমেইসার বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ তোলে। এরপর তার শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্য থেকে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার কর্মকর্তারা আটক করেন এবং লুইজিয়ানার একটি আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।

এই ঘটনার পর রুমেইসা দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়েন। অবশেষে চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে তার একটি সমঝোতা হয়। সেই সমঝোতার ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে চলমান অভিবাসন মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করা হয় এবং তার শিক্ষার্থী মর্যাদা পুনর্বহাল করা হয়।

ঘটনার ধারাবাহিক সময়রেখা

সময়কালঘটনা
২০২৪ সালের মার্চবিশ্ববিদ্যালয় পত্রিকায় ফিলিস্তিন বিষয়ে মতামত নিবন্ধ প্রকাশ
২০২৫ সালের মার্চভিসা বাতিল ও আটক, লুইজিয়ানায় স্থানান্তর
২০২৬ সালের শুরুসরকার ও রুমেইসার মধ্যে সমঝোতা, মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত
২০২৬ সালের এপ্রিলপিএইচডি সম্পন্ন করে তুরস্কে প্রত্যাবর্তন

রুমেইসা বলেন, ১৩ বছরের দীর্ঘ অধ্যয়নের পর তিনি পিএইচডি সম্পন্ন করতে পেরে সন্তুষ্ট এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নিজ দেশে ফিরতে পেরেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তার ব্যক্তিগত সময়ের পাশাপাশি যেসব শিশু ও তরুণদের নিয়ে তিনি কাজ করতে চান, তাদের কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে।

তার আইনজীবীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রুমেইসার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ ছিল বেআইনি। তারা দাবি করেন, তিনি একজন গবেষক ও শিক্ষাবিদ হিসেবে মানবাধিকার এবং শিশু অধিকার বিষয়ে কাজ করেছেন, এবং মতপ্রকাশের কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এক অভিবাসন আদালত এর আগে রায় দেন যে রুমেইসাকে বহিষ্কারের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তবে পরবর্তীতে সেই আদালতের বিচারককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

পৃথকভাবে পাওয়া সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়, কলেজ পত্রিকায় প্রকাশিত ওই নিবন্ধ ছাড়া রুমেইসার বিরুদ্ধে ভিসা বাতিল বা বহিষ্কারের মতো অন্য কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল না।

বর্তমানে রুমেইসা তুরস্কে অবস্থান করছেন এবং শিশু অধ্যয়ন ও মানব উন্নয়ন বিষয়ে নিজের একাডেমিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।