রাজধানীর ডেমরা এলাকায় জ্বালানি তেল বিক্রিকে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয় পরিবহনচালক ও সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকটি ফিলিং স্টেশন থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ড্রাম ও বোতলে তেল সরবরাহ করে তা খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহে ব্যর্থ হচ্ছেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত থেকে বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, একাধিক স্থানে প্রকাশ্যেই বড় ড্রামে তেল ভরা হচ্ছে। বিশেষ করে রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে একটি পিকআপভর্তি খালি ড্রাম এনে তাতে তেল ভরার দৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এসব তেল পরে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয় এবং খোলা বাজারে বিক্রি করা হয়।
অন্যদিকে একই সময়ে সাধারণ মোটরসাইকেল, সিএনজি ও ব্যক্তিগত গাড়িচালকদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। অনেক চালক জানিয়েছেন, তারা ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল সংগ্রহ করতে পারেননি। তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ ব্যবসায়ী চক্র এই অবৈধ সরবরাহ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের দাবি, এই চক্র ফিলিং স্টেশনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিতভাবে তেল সংগ্রহ করে তা খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছে, যা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের পরিপন্থী এবং বাজার ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার এক খোলা বাজার বিক্রেতা জানান, তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সংগ্রহ করে খুচরা বাজারে বিক্রি করেন। তার মতে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এমন একটি সরবরাহ নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে, যা মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির সুযোগ নিয়ে লাভবান হচ্ছে।
নিচে ঘটনাটির সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | পর্যবেক্ষণ |
|---|---|
| স্থান | ডেমরা, স্টাফ কোয়ার্টার এলাকা |
| সময় | ২১ এপ্রিল রাত থেকে ২২ এপ্রিল দুপুর |
| কার্যক্রম | ড্রাম ও বোতলে তেল সরবরাহ |
| প্রভাব | দীর্ঘ লাইন, তেল সংকট |
| অভিযোগ | খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি |
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফিলিং স্টেশনের মালিকরা দাবি করেছেন, তারা সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করেই তেল বিক্রি করছেন। তবে ড্রামে তেল সরবরাহের বিষয়ে তারা সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি, যা সন্দেহ আরও জোরালো করেছে।
অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ, সরবরাহ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছেন, কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও কঠোর তদারকির অভাবই এ ধরনের অনিয়মের মূল কারণ। তারা পরামর্শ দিয়েছেন, সরবরাহ চেইনের প্রতিটি ধাপে নজরদারি বাড়ানো, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিক্রেতাদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ সংকট নিরসন সম্ভব।
