পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে পরিচালিত অভিযানের সময় নৌ পুলিশের সদস্যদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ পরিদর্শকসহ মোট পাঁচজন সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর এলাকার পদ্মা নদীর অংশে। ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে নৌ পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলমান থাকে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল জানতে পারে যে, হরিপুর এলাকার নদীপথে খননযন্ত্র ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তথ্য পাওয়ার পরপরই পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিতে শটগান থেকে গুলি ছোড়া হয় বলে জানা গেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়েন। উভয় পক্ষের মধ্যে কিছু সময় ধরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালীন ছররা গুলিতে নৌ পুলিশের পাঁচজন সদস্য আহত হন।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরে আহতদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অন্য আহতরা পাবনা জেনারেল হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন মুখপাত্র জানান, আহত একজন নৌ পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত রয়েছে এবং চোখেও জখম হয়েছে।
নৌ পুলিশের রাজশাহী অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আহত সদস্যদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
পাবনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নদীপথসহ আশপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আহতদের তথ্য নিচে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| নাম | পদবি | আহত হওয়ার ধরন | চিকিৎসার স্থান |
|---|---|---|---|
| খন্দকার শফিকুল ইসলাম | পরিদর্শক | গুলিবিদ্ধ | পাবনা জেনারেল হাসপাতাল |
| এনামুল হক | সদস্য | গুলিবিদ্ধ (গুরুতর) | রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| শাহিনুর হক | সদস্য | গুলিবিদ্ধ | পাবনা জেনারেল হাসপাতাল |
| নাজমুল হাসান | সদস্য | গুলিবিদ্ধ | পাবনা জেনারেল হাসপাতাল |
| মানিক মিয়া | সদস্য | গুলিবিদ্ধ | পাবনা জেনারেল হাসপাতাল |
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং নদীপথে টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
