রংপুর নগরীতে সামাজিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শাপলা সিনেমা হলে পরিচালিত পুলিশের বিশেষ অভিযানের পর। মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ঝটিকা অভিযানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ১৯ জন তরুণী এবং ১৬ জন তরুণ রয়েছে। এদের মধ্যে ৩৫ জনই বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি সিনেমা হলের দুইজন কর্মচারীকেও আটক করা হয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থিত শাপলা সিনেমা হলে এ অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে সিনেমা হলের তৃতীয় তলায় বিশেষভাবে তৈরি গোপন কক্ষগুলোতে অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব কক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তরুণ-তরুণীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, সিনেমা হলের তৃতীয় তলায় সাধারণ প্রদর্শনী কক্ষের আড়ালে একাধিক ছোট ছোট গোপন কক্ষ তৈরি করা হয়েছিল। এসব কক্ষে বিছানার ব্যবস্থা রেখে উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের অনৈতিক কার্যকলাপের সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল। দীর্ঘদিন নজরদারির পর নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালানো হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই তাদের আটক করা হয়।
তিনি আরও জানান, অভিযানের সময় সিনেমা হলে যারা নিয়মিতভাবে চলচ্চিত্র দেখতে এসেছিলেন, তাদের কাউকে হয়রানি করা হয়নি। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কক্ষগুলোতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদেরই আটক করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটককৃতদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী হওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে সিনেমা হলের দুই কর্মচারীকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগে আটক রাখা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী আরও বলেন, নগরীর আইনশৃঙ্খলা ও নৈতিক পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে বিপথগামী করার যেকোনো চক্র বা প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এর আগে গত ১৫ এপ্রিল রংপুরের স্টেশন রোড এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছিল। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একই ধরনের আরেকটি বড় অভিযান নগরীতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাম্প্রতিক অভিযানের সারসংক্ষেপ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | শাপলা সিনেমা হল, রংপুর |
| অভিযানের তারিখ | ১৯ এপ্রিল |
| মোট আটক | ৩৭ জন |
| শিক্ষার্থী | ৩৫ জন (স্কুল ও কলেজ) |
| তরুণ | ১৬ জন |
| তরুণী | ১৯ জন |
| সিনেমা হল কর্মচারী | ২ জন |
| অভিযোগ | অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সহায়তা |
| অভিযান পরিচালনা | মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) |
আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা শুধুমাত্র আইন প্রয়োগের বিষয় নয়, বরং সামাজিক ও পারিবারিক নজরদারির ঘাটতিরও প্রতিফলন। শিক্ষার্থীদের এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া ভবিষ্যৎ সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে তারা মন্তব্য করেছেন।
তাদের মতে, শুধু পুলিশি অভিযান দিয়ে নয়, বরং পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ ধরনের প্রবণতা রোধ করা কঠিন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে রাখতে নিয়মিত কাউন্সেলিং, নৈতিক শিক্ষা এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
