শিবগঞ্জে পৃথক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারীসহ মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা, বুধবার ভোর এবং বুধবার সকাল—বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান একজন ট্রাক হেলপার, একজন ইজিবাইক চালক এবং একজন গৃহবধূ। দুর্ঘটনাগুলো ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক এবং এর সংলগ্ন আঞ্চলিক সড়ক এলাকায় সংঘটিত হয়।

স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বুধবার ভোর আনুমানিক সাড়ে পাঁচটার দিকে মোকামতলার চকপাড়া এলাকায় একটি বিকল ট্রাক সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। ট্রাকটি জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেটি রাস্তার এক পাশে থামানো ছিল। ওই সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি দশ চাকার বাঁশবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় সামনের ট্রাকের কেবিন সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ট্রাকের হেলপার গোলাম মোস্তফা (৩২) নিহত হন। দুর্ঘটনার পর চালক আহত অবস্থায় পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। পরে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত দুটি ট্রাক জব্দ করে হেফাজতে নেয়।

একই দিন সকাল সাড়ে দশটার দিকে মোকামতলা–জয়পুরহাট আঞ্চলিক সড়কের আমতলি এলাকায় আরও একটি দুর্ঘটনা ঘটে। যাত্রীসহ ইজিবাইক চালক মিনারুল ইসলাম (২৫) আমতলির দিকে যাচ্ছিলেন। ফিলিং স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছালে তিনি যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে ইজিবাইকটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মিনারুল ইসলামের মৃত্যু হয়। এ সময় ইজিবাইকের মালিক, যিনি তৃতীয় লিঙ্গের একজন ব্যক্তি, আহত হন বলে স্থানীয়রা জানান।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একই উপজেলায় আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় খাতেমন বিবি (৬০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি বগুড়া সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর ভাগ্নে জিন্নাহ মিয়া ক্যানসারে মারা গেলে তিনি শিবগঞ্জের হাতিবান্ধা এলাকায় মরদেহ দেখতে যান। সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে মরদেহ দেখে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মাইক্রোবাস তাকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাসটি পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

শিবগঞ্জ থানা পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশ পৃথক তিনটি দুর্ঘটনার পর মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে অপমৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গতি, নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং সড়কের পাশে ভারী যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকা—এ ধরনের বিষয়গুলো ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিচে নিহতদের সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো—

নামবয়সপরিচয়দুর্ঘটনার স্থানসময়
গোলাম মোস্তফা৩২ট্রাক হেলপারমোকামতলা, চকপাড়াবুধবার ভোর সাড়ে ৫টা
মিনারুল ইসলাম২৫ইজিবাইক চালকআমতলি, মোকামতলা–জয়পুরহাট সড়কবুধবার সকাল সাড়ে ১০টা
খাতেমন বিবি৬০গৃহবধূহাতিবান্ধা, ঢাকা–রংপুর মহাসড়কমঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টা

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একই এলাকায় ধারাবাহিকভাবে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটায় মহাসড়ক ও সংলগ্ন আঞ্চলিক সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্ক সংকেত ও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে উঠেছে। তারা আরও মনে করেন, রাত ও ভোরের সময় অতিরিক্ত গতি এবং সড়কে ভারী যানবাহন অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচল দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।