প্রাচীরঘেরা বাড়িতে ১২০০ লিটার পেট্রল জব্দ, তিনজন গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর মাইজদী এলাকায় প্রাচীরঘেরা একটি বসতবাড়িতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পেট্রল অবৈধভাবে মজুত রাখার অভিযোগে তিনজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মোট এক হাজার দুইশ লিটার পেট্রল উদ্ধার করা হয় বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী জেলা শহরের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায়। গোয়েন্দা শাখার তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে পেট্রল মজুত করে আসছিল এবং তা অধিক মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করছিল।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন একই এলাকার চাপরাশি বাড়ির মো. শাহজাহানের ছেলে মো. মুসফিকুর রহমান (১৯), মানিক হুজুর বাড়ির জালাল উদ্দিনের ছেলে মাহমুদুল হাসান (২৬) এবং নোয়াখালী পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের মধুসূদনপুর এলাকার পণ্ডিত বাড়ির মৃত ফজলুল হকের ছেলে মো. মঞ্জুর আলম (৫৩)।

গোয়েন্দা শাখা জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে প্রাচীরঘেরা ওই বাড়ির ভেতরে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পেট্রল মজুত রাখা হয়েছে। তথ্য যাচাইয়ের পর দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বাড়ির ভেতরে বিভিন্ন স্থানে রাখা বড় আকারের পাত্রে সংরক্ষিত পেট্রল উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে পেট্রল পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ছোট পণ্যবাহী যানবাহন জব্দ করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মজুত করা পেট্রল অবৈধভাবে বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল। এ ধরনের কার্যক্রম জনস্বার্থ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা মন্তব্য করে। উদ্ধার করা পেট্রল এবং সংশ্লিষ্ট সামগ্রী আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে।

ঘটনার পর সুধারাম মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

নিচে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হলো—

নামবয়সপিতার নামঠিকানা
মো. মুসফিকুর রহমান১৯ বছরমো. শাহজাহানচাপরাশি বাড়ি, লক্ষ্মীনারায়ণপুর, মাইজদী
মাহমুদুল হাসান২৬ বছরজালাল উদ্দিনমানিক হুজুর বাড়ি, লক্ষ্মীনারায়ণপুর, মাইজদী
মো. মঞ্জুর আলম৫৩ বছরমৃত ফজলুল হকপণ্ডিত বাড়ি, মধুসূদনপুর, নোয়াখালী পৌরসভা

গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, এ ধরনের অবৈধ মজুত ও বাণিজ্য রোধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় জ্বালানি পেট্রল মজুত ও পরিবহনের ক্ষেত্রে বিধি অনুসরণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।