দেশে হামের সংক্রমণ ও এর জটিলতায় শিশুমৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গজনিত জটিলতায় আরও ৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে একজন শিশুর মৃত্যু সরাসরি হামের কারণে হয়েছে বলে নিশ্চিত করা গেলেও বাকি আটজনের মৃত্যু হামের উপসর্গজনিত জটিলতা—যেমন তীব্র জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং অন্যান্য গুরুতর সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, একই সময়সীমায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৬৯৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে ১৭৬ জন শিশুর দেহে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এই তথ্য গতকাল সকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি তুলে ধরেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে যেসব শিশু টিকা গ্রহণ করেনি অথবা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এই রোগ নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহসহ প্রাণঘাতী জটিলতার কারণ হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জেলার হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশু ওয়ার্ডগুলোতে শয্যার সংকট তৈরি হচ্ছে এবং চিকিৎসক ও নার্সরা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে সেবা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক হাসপাতালে পৃথকভাবে সংক্রমিত শিশুদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েকটি জেলায় হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় জরুরি ভিত্তিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করা হয়েছে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, টিকাদানই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের মধ্যে জ্বর, চোখ লাল হওয়া, শরীরে লালচে র্যাশ, কাশি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে রোগটি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
নিচে গত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| সূচক | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট শিশুমৃত্যু | ৯ জন |
| নিশ্চিত হামে মৃত্যু | ১ জন |
| হামের উপসর্গজনিত মৃত্যু | ৮ জন |
| নতুন ভর্তি রোগী | ৬৯৮ জন |
| নিশ্চিত সংক্রমণ | ১৭৬ জন |
বর্তমান পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা না গেলে শিশুদের মধ্যে এই সংক্রমণ আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে, যা স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
