শীর্ষ মাদক কারবারি আটক সাভারে

ঢাকার সাভার এলাকায় বিপুল পরিমাণ হেরোইনসহ এক কথিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-চার। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে প্রায় দেড় কেজি হেরোইন জব্দ করা হয়, যা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

গত সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকার বিরুলিয়া সড়ক সংলগ্ন আমতলা পালোয়ানপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে আটক ব্যক্তির নাম হৃদয় হোসেন, বয়স ২৭ বছর। তিনি সাভার উপজেলার দেওগাঁও পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল থেকে মোট ১ কেজি ২৪৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত এই মাদকের বাজারমূল্য আনুমানিক এক কোটি চব্বিশ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এত বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় আতঙ্ক ও কৌতূহল দুটোই দেখা দিয়েছে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-চার-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে তাদের কোম্পানি অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহীনুর কবির আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি মাদক চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

উদ্ধার ও অভিযানের বিস্তারিত তথ্য

বিষয়তথ্য
আটক ব্যক্তির নামহৃদয় হোসেন (বয়স ২৭ বছর)
উদ্ধারকৃত মাদকের ধরনহেরোইন
মোট পরিমাণ১ কেজি ২৪৫ গ্রাম
আনুমানিক মূল্য১ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা
অভিযানের স্থানপশ্চিম রাজাশন, সাভার
অভিযানের সময়সোমবার রাত সাড়ে ১১টা

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটক হৃদয় হোসেন দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হেরোইন সংগ্রহ করে সাভার ও আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করতেন। তিনি একটি সংগঠিত মাদক চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তিনি শুধু মাদক ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; বরং এলাকায় প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে দাবি করা হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের মতো অভিযোগও স্থানীয়ভাবে শোনা যায়।

অন্যদিকে এলাকাবাসীর একাংশের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিভিন্ন ধরনের প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এলাকায় অবস্থান শক্ত করেছিলেন। সময়ের পরিবর্তনে প্রভাব ধরে রাখতে নানা কৌশল গ্রহণ করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-চার জানিয়েছে, দেশের মাদক নির্মূল কার্যক্রম জোরদার করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এদিকে এই গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন, নিয়মিত ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় মাদক ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।