দরবারে হামলার পর অচল কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ফিলিপনগর গ্রামে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরের দরবারে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুরো এলাকায় এখনো চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কাউকে আটক করাও সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরের দিকে দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত দরবারে হঠাৎ করেই দুই থেকে তিনশ মানুষের একটি দল জড়ো হয়। তারা দরবারে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। একই সময়ে পীর শামীম রেজাকে মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তিনি মারা যান।

ঘটনার পর রবিবার দুপুরে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকা নিস্তব্ধ। আশপাশের বাড়িঘরে পুরুষ মানুষের উপস্থিতি খুবই কম। দরবারের ধ্বংসস্তূপের পাশে কিছু নিরাপত্তা বাহিনী অবস্থান করলেও তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে অনাগ্রহী। এলাকাজুড়ে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট।

নিহতের বড় ভাই গোলাম রহমান জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো মামলা করা হয়নি। তিনি বলেন, ভাইয়ের মরদেহ এখন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ গ্রামের বাড়িতে এনে দাফন করা হবে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা না হওয়ায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক শেখ জয়নুদ্দীন। তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

ঘটনার সময়রেখা

সময়ঘটনা
শনিবার দুপুর আড়াইটাদরবারে দুই থেকে তিনশ মানুষের হামলা ও ভাঙচুর শুরু
একই সময়দরবারে অগ্নিসংযোগ ও পীর শামীম রেজাকে মারধর ও কুপিয়ে আহত করা
বিকেলআহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া
বিকেল সাড়ে চারটাপীর শামীম রেজার মৃত্যু
রবিবার দুপুরঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ
২৪ ঘণ্টা পরমামলা হয়নি, কেউ আটক হয়নি

স্থানীয়দের মধ্যে এখনো ভয় ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে। অনেকেই এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ঘটনার দ্রুত বিচার ও আইনগত প্রক্রিয়া শুরু না হলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।