ডলার বাজারে কঠোর সতর্কতা জারি

মার্কিন ডলারের বিনিময় বাজারে অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি ঠেকাতে এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংককে অতিরিক্ত দামে ডলার কেনাবেচা থেকে বিরত থাকার জন্য মৌখিকভাবে কঠোর সতর্কতা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোঃ মোস্তাকুর রহমান এবং ব্যাংকার্স বাংলাদেশ সমিতির প্রতিনিধিদের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যাংক নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি দামে ডলার ক্রয় করায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, কিছু ব্যাংক প্রবাসী আয়ের ডলার বা রেমিট্যান্স ডলার বাজার থেকে নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে ক্রয় করছে, যা বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে ব্যাংকগুলোকে স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে তারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকেই লেনদেন পরিচালনা করে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাজারে ডলারের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক রয়েছে এবং ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ধারণ সক্ষমতাও স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত দামে ডলার কেনা হলে বাজারে অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হতে পারে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দিয়েছে যে মানি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে রেমিট্যান্স ডলার নির্ধারিত সীমার মধ্যে কিনতে হবে। একই সঙ্গে আন্তঃব্যাংক লেনদেনের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ নির্ধারিত সীমা অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তবে ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি কিছু ব্যাংক নির্ধারিত সীমার চেয়ে কিছুটা বেশি দামে ডলার ক্রয় করেছে। এর ফলে আন্তঃব্যাংক ডলার লেনদেনের গতি কমে গেছে এবং অনেক ব্যাংক উচ্চ দরে কেনা ডলার তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছে।

ডলার লেনদেন সংক্রান্ত প্রধান নির্দেশনা

বিষয়নির্দেশিত সীমা
মানি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে ডলার ক্রয়নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার মধ্যে
আন্তঃব্যাংক লেনদেনসর্বোচ্চ নির্ধারিত সীমা
বাজারে ডলার সরবরাহ পরিস্থিতিতুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক
ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা অবস্থানস্থিতিশীল

বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে ব্যাংক কর্মীদের প্রণোদনা ও বোনাস নীতিমালা নিয়ে। ব্যাংকার্স বাংলাদেশ সমিতি একটি পূর্ববর্তী নির্দেশনা পুনর্বিবেচনার দাবি জানায়, যেখানে মূলধন ঘাটতি বা প্রভিশন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকগুলোকে কর্মীদের উৎসাহ বোনাস প্রদান থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল। ব্যাংকারদের মতে, এই বিধিনিষেধ শিথিল করা হলে কর্মীদের কর্মোদ্যম বজায় থাকবে এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

সূত্র জানায়, গভর্নর বিষয়টি পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং শর্তসাপেক্ষে কিছু ব্যাংককে বোনাস প্রদানের সুযোগ দেওয়া হতে পারে, যদি তারা ন্যূনতম প্রভিশন মান বজায় রাখতে সক্ষম হয়।

এছাড়া সমিতি ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের প্রধান নির্বাহীর বার্ষিক বোনাসের সর্বোচ্চ সীমা বর্তমানে পনেরো লাখ টাকা থেকে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বিশ লাখ টাকা থেকে চল্লিশ লাখ টাকায় উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

আরও একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পরিবেশবান্ধব যানবাহন বিশেষ করে হাইব্রিড গাড়ি ক্রয়ে ব্যাংকগুলো যেন সর্বোচ্চ নব্বই শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়ন করতে পারে, যাতে সবুজ অর্থনীতির প্রসার ত্বরান্বিত হয়।

সব মিলিয়ে বৈঠকে ডলার বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ব্যাংকিং খাতের নীতিগত সংস্কার এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।