চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে বায়ার্ন মিউনিখ ও আর্সেনালের পারফরম্যান্স ঘিরে একাধিক রেকর্ড ও ব্যক্তিগত অর্জনের তথ্য সামনে এসেছে। বিভিন্ন ম্যাচে দ্রুত গোল, টানা সেমিফাইনাল নিশ্চিতকরণ এবং গোলসংখ্যার নতুন মাইলফলক ফুটবল ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নিচে ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করা হলো।
মাত্র ৩৫ সেকেন্ডে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে আরদা গুলেরের করা গোলটি চ্যাম্পিয়নস লিগে ক্লাবটির দ্রুততম গোল হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। তবে পূর্ববর্তী ইউরোপিয়ান কাপ যুগসহ বিবেচনায় এটি রিয়ালের দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। ১৯৫৭ সালে অ্যান্টওয়ার্পের বিপক্ষে হেক্টর রিয়াল মাত্র ৩১ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন, যা এখনো ক্লাব ইতিহাসে দ্রুততম।
আর্সেনাল টানা দ্বিতীয় মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে পৌঁছেছে। ইউরোপিয়ান কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে এটি তাদের মোট চতুর্থ সেমিফাইনাল উপস্থিতি। এর আগে তারা ২০০৫–০৬ মৌসুমে ফাইনালে খেলেছিল এবং ২০০৮–০৯ মৌসুমেও শেষ চারে পৌঁছেছিল।
মিউনিখে বায়ার্নের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচগুলোতে গোল করার দিক থেকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এখনো শীর্ষে রয়েছেন, তাঁর গোলসংখ্যা চারটি। কিলিয়ান এমবাপ্পে করেছেন তিনটি গোল। দুইটি করে গোল করেছেন আরদা গুলের, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, সের্হিও রামোস, সাদিও মানে এবং নেইমার।
হ্যারি কেইন রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে শেষ পাঁচ ম্যাচে তিনটি গোল এবং দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন। এই ধারাবাহিক অবদান চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে রিয়ালের বিপক্ষে কোনো খেলোয়াড়ের টানা ম্যাচে সর্বাধিক অবদান হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বায়ার্ন মিউনিখ ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে নকআউট ম্যাচে প্রথম ছয় মিনিটের মধ্যেই দুই দলের গোল হওয়ার ঘটনা চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘটেছে, যা একটি অনন্য রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কিলিয়ান এমবাপ্পে বায়ার্নের বিপক্ষে ম্যাচে ৪২ মিনিটে গোল করে চলতি মৌসুমে তাঁর মোট গোলসংখ্যা ৪০-এ পৌঁছান। চ্যাম্পিয়নস লিগের অ্যাওয়ে ম্যাচে এটি তাঁর দশম গোল, যার মাধ্যমে তিনি এক মৌসুমে অ্যাওয়ে ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
বায়ার্ন মিউনিখ এ নিয়ে ২২তমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে, যা প্রতিযোগিতার ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। শীর্ষে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ, যাদের সেমিফাইনাল উপস্থিতি ৩৩ বার।
চলতি মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ক্লাবগুলোর মধ্যে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন হ্যারি কেইন। তিনি ৪২ ম্যাচে ৫০ গোল করেছেন। তালিকায় দ্বিতীয় কিলিয়ান এমবাপ্পে ৩৯ ম্যাচে ৪০ গোল এবং তৃতীয় আর্লিং হলান্ড ৪৫ ম্যাচে ৩৩ গোল করেছেন।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় শীর্ষে আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, যিনি ২০১৩–১৪ মৌসুমে ১৭ গোল করেন। এরপর ২০১৫–১৬ মৌসুমে ১৬ গোল এবং ২০১৭–১৮ মৌসুমে ১৫ গোল করেন। ১৫ গোলের তালিকায় রয়েছেন করিম বেনজেমা (২০২১–২২ মৌসুম) ও রবার্ট লেভানডফস্কি (২০১৯–২০ মৌসুম)। এ তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পেও, যিনি একই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।
