অপরাজিত আর্সেনালের ইউরোপীয় সাফল্য

এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কোনো গোল না হলেও শেষ বাঁশি বাজার পর ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় নতুন ইতিহাস গড়ে আর্সেনাল। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে স্পোর্তিংয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে ইংলিশ ক্লাবটি। প্রথম লেগে পর্তুগালের মাঠে ১–০ ব্যবধানে জয় পাওয়ায় দুই লেগ মিলিয়ে ১–০ ফলাফলে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় মিকেল আরতেতার দল।

এই সাফল্যের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় টানা দ্বিতীয়বার সেমিফাইনালে উঠল আর্সেনাল। তবে ফিরতি লেগে গোল করতে না পারায় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কিছুটা সমালোচনা হলেও কোচ আরতেতা এতে উদ্বিগ্ন নন। বরং মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দলের অগ্রগতি এবং মানসিক দৃঢ়তাকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে ৩২ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে আর্সেনাল। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে এবং তাদের একটি ম্যাচ হাতে আছে। অন্যদিকে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের মধ্যে একমাত্র আর্সেনালই এখন পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় অপরাজিত অবস্থায় রয়েছে।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ পাঁচ ম্যাচে আর্সেনাল তিনটিতে পরাজিত হলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের পারফরম্যান্স ধারাবাহিক ও স্থিতিশীল। লিগ পর্বে আট ম্যাচের সবকটিতে জয় পেয়ে শীর্ষে থেকে শেষ ষোলোতে ওঠে তারা। শেষ ষোলোতে বায়ার লেভারকুজেনের বিপক্ষে প্রথম লেগ ড্রয়ের পর ফিরতি লেগে ২–০ ব্যবধানে জয় পায় আর্সেনাল।

কোয়ার্টার ফাইনালে স্পোর্তিংয়ের বিপক্ষে দুই লেগে কোনো হার ছাড়াই সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় লন্ডনের ক্লাবটি। তবে ইনজুরির কারণে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড়কে ছাড়া মাঠে নামতে হওয়ায় দলে চাপ তৈরি হয়েছিল। বুকায়ো সাকা, মার্টিন ওডেগার্ড এবং জুরিয়েন টিম্বার অনুপস্থিত থাকলেও ডেক্লান রাইস মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেন, যা কোচ আরতেতা বিশেষভাবে প্রশংসা করেন।

আরতেতা ম্যাচ শেষে বলেন, দলের খেলোয়াড়রা নিখুঁত না হলেও তাদের পরিশ্রম ও লড়াইয়ের মানসিকতা প্রশংসার যোগ্য। তার মতে, এই প্রচেষ্টা ও নিবেদনই শিরোপা জয়ের পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ক্লাবের ১৪০ বছরের ইতিহাসে আগে কখনো এমন অর্জন হয়নি, যা দলগত প্রচেষ্টার গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে। পাশাপাশি সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাইরের মন্তব্যে মনে হতে পারে আর্সেনাল অবনমন এড়ানোর লড়াই করছে, যদিও বাস্তবে দলটি শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় শিরোপার জন্য লড়ছে।

চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারের চিত্রও এখন চূড়ান্ত হয়েছে। চারটি দলের মধ্যে রয়েছে জার্মানির বায়ার্ন, ফ্রান্সের প্যারিস সাঁ জার্মেই, স্পেনের আতলেতিকো মাদ্রিদ এবং ইংল্যান্ডের আর্সেনাল। এই চার দলের মধ্যে কেবল আর্সেনালই এখন পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় কোনো পরাজয়ের মুখ দেখেনি।

সেমিফাইনাল দলদেশ
বায়ার্নজার্মানি
প্যারিস সাঁ জার্মেইফ্রান্স
আতলেতিকো মাদ্রিদস্পেন
আর্সেনালইংল্যান্ড

আরতেতা সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ক্লাব বর্তমানে যে অবস্থানে আছে তা উপভোগ করা উচিত। তার মতে, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অর্জিত এই অবস্থান দীর্ঘ ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে।